তান্ত্রিকের আদেশ, নিজে সন্তানের মা হওয়ার জন্য প্রতিবেশীর তিন বছরের ছেলেকে খুন করলেন মহিলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সন্তানের জন্ম না হওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়িতে গঞ্জনা দিত ২৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে। সন্তানলাভের আশায় ওই তরুণী এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হন। তান্ত্রিক তাঁকে বলেন, একটি শিশুকে বলি দিলে তিনি নিজে সন্তানের মা হতে পারবেন। সেইমতো মহিলা তাঁর প্রতিবেশীর তিন বছরের ছেলেকে খুন করেন। দেহটি প্ল্যাস্টিক ব্যাগে মুড়ে ফেলে রাখেন উত্তর দিল্লির রোহিণীর একটি বাড়ির ছাদের ওপরে।
হত্যাকারী মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম নীলম গুপ্তা। ২০১৩ সালে তাঁর বিয়ে হয়। সন্তান না হওয়ার জন্য তিনি ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বছর চারেক আগে তিনি উত্তরপ্রদেশের হরদোইতে নিজের গ্রামে যান। সেখানে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তান্ত্রিক তাঁকে বলেন, একটি শিশুকে বলি দিলে তিনি নিজে সন্তানের মা হতে পারবেন।
গত শনিবার মৃত শিশুর বাবা-মা পুলিশকে জানান, তাঁদের ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের এক কর্মী লক্ষ করেন, যে বাড়িতে শিশুটি থাকত, তার কাছেই একটি বাড়ির ছাদে প্ল্যাস্টিকে জড়ানো কিছু একটা পড়ে রয়েছে। প্ল্যাস্টিক সরিয়ে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘাড়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়, শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।
মৃত ছেলেটির বাবার বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি মামলা করে। মৃতের বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, কাছেই একটি বাড়িতে শিশুটিকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। পুলিশের জেরার মুখে নীলম প্রথমে মিথ্যা বলেন। পরে স্বীকার করেন, শিশুটি যখন ছাদে খেলছিল, তখন তিনি তাকে হত্যা করেছেন।
রোহিণী থানার পুলিশের ডেপুটি কমিশনার প্রণব তায়েল বলেন, জেরায় নীলম স্বীকার করেছেন, সন্তানের মা হতে না পারার জন্য তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে নানা কটু কথা শুনতে হত। পাড়াপড়শিরাও নানা কথা শোনাত। এইভাবে তাঁর ওপরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তখনই তিনি হরদোইতে তান্ত্রিকের সঙ্গে দেখা করেন।
পুলিশকর্তা বলেন, বন্ধ্যা অপবাদ শুনতে শুনতে নীলম মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি স্থির করেন, নিজে সন্তান পাওয়ার জন্য প্রতিবেশীর ছেলেকে খুন করবেন। শনিবার শিশুটি যখন ছাদে খেলছিল, তিনি তাকে খুন করেন।
নীলমের স্বামী বাজারে শাকসবজি বিক্রি করেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More