দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের দিন সনিয়াকে চিঠি মমতার, আসুন আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ১ এপ্রিল ভোট হবে নন্দীগ্রামে। সেখানে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের যখন আর ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই, তখন জানা যায়, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী সহ ১০ টি বিরোধী দলের নেতানেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটের পরে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থির করতে হবে, কী কৌশলে বিজেপিকে ঠেকানো যায়।

চিঠিতে সাতটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মূল কথা হল, বিরোধীদের একজোট হওয়ার সময় এসেছে। বিজেপি যেভাবে ‘গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপরে হামলা করছে’, তা রুখতে হলে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবেই দেশের মানুষের সামনে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হয়ে ওঠা যাবে।

বিজেপি কীভাবে ‘গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরে আক্রমণ করছে’, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা সাতটি উদাহরণ দিয়েছেন। প্রথমেই বলেছেন, কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি আইন পাশ করেছে যাতে দিল্লি সরকারের চেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকবে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি।

মমতা লিখেছেন, “বিজেপি-র শাসনে বিরোধী দলগুলির স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে। তারা সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করতে চাইছে। রাজ্য সরকারগুলিকে পুরসভার স্তরে নামিয়ে আনতে চাইছে। বিজেপি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।”

পরে মমতা লিখেছেন, “বিজেপি দিল্লি নিয়ে যা করেছে, তা ব্যতিক্রম নয়। এটাই ক্রমশ নিয়ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে ‘নির্বাচিত সরকারগুলির কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে’ কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি রাজ্যপালের পদটির অপব্যবহার করছে। সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করছে। রাজ্য সরকারের প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না। জাতীয় উন্নয়ন পরিষদ ও যোজনা কমিশনের মতো সংস্থাকে ধ্বংস করেছে। অর্থের জোরে অ-বিজেপি সরকারগুলি ফেলে দিচ্ছে। জাতীয় সম্পদের বেসরকারিকরণ করছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত করে তুলেছে।

চিঠির শেষে মমতা লিখেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। বিজেপি যেভাবে গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপরে আঘাত হানছে, তার বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “টিএমসি-র চেয়ারপার্সন হিসাবে আমি সমমনস্ক সব দলের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করব।

সনিয়া বাদে অপর যাঁদের উদ্দেশে মমতা এই চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন এনসিপি-র শরদ পাওয়ার, ডিএমকে-র স্ট্যালিন, শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগনমোহন রেড্ডি, বিজেডি-র নবীন পট্টনায়ক, তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কে চন্দ্রশেখর রাও, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সিপিআই এম-এলের দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।

সিপিএম এবং সিপিআই-এর উদ্দেশে মমতা এই চিঠি দেননি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More