তৃৃণমূল বিজেপি সংঘাতে দিনভর তেতে রইল বর্ধমানের গলসি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে ষষ্ঠদফার ভোটের দিন সকাল থেকেই অশান্ত হল পূর্ব বর্ধমানের গলসি।

কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই এ দিন সকাল থেকে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত চরমে ওঠে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে । ভোট শুরুর খানিক পর থেকেই এদিন অশান্তি শুরু হয়ে যায় গলসির মনোহর সুজাপুর গ্রামে । গ্রামের ২১৩ ও ২১৪ নম্বর বুথের বিজেপি সমর্থকরা অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করতে এদিন ভোর থেকে এলাকায় বোমাবাজি করে শাসক দল ।

এলাকার বিজেপি কর্মী ঝুলন দত্ত বলেন, ভোটের আগেই ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য তাঁদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল লোকজন হুমকি দিয়ে গিয়েছিল । প্রতিবাদ করায় তৃণমূল কর্মীরা গ্রামের নিরীহ বিজেপি সমর্থক চঞ্চল দাস বৈরাগ্যকে ব্যাপক মারধর করে। তাকে গলসির পুরসা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ।

এই গ্রামেরই তরুণী অন্তরা দাস বলেন, “এবারই প্রথম ভোটাধিকার পেয়েছি । কিন্তু ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারছিলাম না ।” এইসব ঘটনার প্রতিবাদে করোনা বিধি শিকেয় তুলে এদিন দুপুরবেলা থেকে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান মনোহর সুজাপুর গ্রামের ভোটাররা । গ্রামের বহু মহিলাও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ।পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা দিয়ে তাদের বুথে নিয়ে গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করলে বিক্ষোভ মেটে।

এলাকার তৃণমূল নেতা এমদাদুল হক মল্লিক অবশ্য বলেন, “আমাদের গ্রামের ১৭ শো ভোটারের মধ্যে কেউ বিজেপি করে বলে আমার জানা নেই । সব মিথ্যা অভিযোগ । কোনও অশান্তি হয়নি । বোমাবাজির ঘটনাও ঘটেনি । গ্রামের কোনও ভোটারকে কেউ ভোট দিতে যেতে বাধা দেয়নি।” মারধরে জখম চঞ্চল দাস বৈরাগ্য তৃণমূলের লোক বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেতা এমদাদুল হক ।

মনোহর সুজাপুর গ্রামে অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতে একইভাবে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে অশান্ত হয় গলসির শিড়রাই গ্রাম । গ্রামের বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করে এদিন সকালে তৃণমূলের কয়েকজন বাইকে করে এসে ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে যায় । সেই ভয়ে শিড়রাই গ্রামের ২৪৩ ও ২৪৩ নম্বর বুথের ভোটাররা ভোট দিতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না । এই খবর পেয়ে গলসির বিজেপি প্রার্থী বিকাশ বিশ্বাস গলসির খিরাই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে রাস্তায় ধর্নায় বসে পড়েন । বিকাশবাবুর অভিযোগ, ভোটের তিন দিন আগে থেকে তৃণমূলের কিছু কর্মী সমর্থক এলাকার ভোটারদের ভোট দিতে না যাওয়ায় জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন করে যায় । সেই কারণে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ভোটারা ভয়ে ভোটকেন্দ্র মুখো হননি । তার জন্য বেলা ১২ টা পর্যন্ত দুটি বুথে মাত্র ১০ শতাংশ ভোট পড়ে ভোটদান থমকে যায় ।

বিজেপি প্রার্থী বিকাশ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তিনি ধর্নায় বসার সেখানেও তৃণমূলের লোকজন তাঁকে বোমা মারার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এদিকে বিজেপি প্রার্থী ধর্নায় বসে যাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে কমিশন ।

সকাল থেকে এই দুই বুথে অল্প সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল ।পরে শিড়রাই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম পৌঁছে যায় । ভোটারদের হুমকি দেওয়া ও ভোটদানে বাধা না দেওয়ার জন্য কমিশনের তরফে এলাকায় প্রচারও চালানো হয় । এরপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী শিড়রাই গ্রামের দু’টি বুথের ভীত সন্ত্রস্ত ভোটারদের নিরাপত্তা দিয়ে বুথে নিয়ে গিয়ে ভোট দানের ব্যবস্থা করলে বিজেপি প্রার্থী ধরনা প্রত্যাহার করে নেন ।

বিজেপি প্রার্থীর আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে গলসির তৃণমূল প্রার্থী নেপাল ঘোড়ুই বলেন, “কোথাও কেউ ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেননি । পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়ে এদিন সকাল থেকে একের পর এক মিথ্যে অভিযোগ তুলে বিজেপির প্রার্থী ও বিজেপির লোকজন এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।”

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More