মাইক্রোসফটের অত্যাধুনিক গগলস দিয়ে ‘সুপার সোলজার’ বানাচ্ছে আমেরিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সারমর্ম কিছুটা ভুতুড়ে। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় অবাস্তব এক বাস্তবতা। কয়েক দশক আগে হলে বলে দেওয়া যেত, ধুর! তা আবার হয় নাকি? কিন্তু এখন আর বলবার জো নেই। প্রযুক্তির বিজ্ঞানে সবই বাস্তব, তা যতই অলীক হোক। সম্প্রতি সি এন বি সির একটি রিপোর্টে এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণার কথা জানা গেল।

‘সুপার সোলজার’ বা অতিরিক্ত শক্তিশালী সৈন্যদল বানানোর লক্ষ্যে ২২ লক্ষ কোটি টাকার বরাত পেয়েছে আমেরিকার বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট। আমেরিকান আর্মিতে এবার ব্যবহার হবে এ-আর বা অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে ভার্চুয়াল জগৎ হয়ে উঠবে জীবন্ত। আগামী দশ বছরের মধ্যে লক্ষেরও বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত করে বাস্তব-অবাস্তবের মিলমিশে এক বিশেষ শক্তিশালী সৈন্যদল গঠন করতে চলেছে আমেরিকান আর্মি।

এ-কে ৪৭, মিসাইল কিংবা পরমাণু শক্তির যুদ্ধেই আধুনিক বিশ্ব ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। হাতাহাতি লড়াইয়ের ধারনা নিতান্তই সেকেলে বলে একপ্রকার বাতিলের খাতায় পড়ে ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে আই ভি এ এস বা ইন্টিগ্রেটেড ভিসুয়াল অগমেন্টেড সিস্টেম এসে সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দেবে কে জানত! হাতাহাতির মত সেকেলে পদ্ধতিই আবার চালু হতে চলেছে এই নয়া প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে। সৈন্যদের আরও বেশি সজাগ, সুরক্ষিত এবং কার্যক্ষম করে তুলতে তাঁদের হেডসেটগুলি এ-আর প্রযুক্তিতে আপগ্রেড করে দেওয়া হবে। এগুলোকে চশমা বা গগলস বলতে পারেন। যাঁরা থ্রিডি ছবি এবং ভি-আর বক্সের ভক্ত তাঁদের কাছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি সমন্বিত এই হেডসেট কিছুটা চেনা ঠেকতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তিবিদরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন এই হেডসেটের সঙ্গে ভি-আর বক্সের প্রযুক্তিগত ফারাক রয়েছে আকাশ-পাতাল। ভি-আর প্রযুক্তি মিথ্যে জগৎকে সত্যি করে দেখায়, যাকে বলে ভারচুয়াল রিয়েলিটি। কিন্তু এ-আর হল রিয়েলিটিরই একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং বহুমাত্রিক রূপ।

কীভাবে কাজ করবে আই ভি এস হেডসেট?

২০১৬ সালে মাইক্রোসফট সংস্থা বাজারে এনেছিল হলোলেন্স। সেই হলোলেন্সের ভিত্তিতে এ-আর প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মাইক্রোসফট অ্যাজুর ক্লাউড সার্ভিস তৈরি করবে অত্যাধুনিক একধরনের হেডসেট। খালি চোখে মানুষের দৃষ্টিকোণের বিস্তার ১৮০ ডিগ্রি হলেও একবার তাকিয়ে অনেককিছুই আমাদের খুঁটিয়ে দেখা হয়ে ওঠেনা। সামনের বড় গাছটার আড়ালে কোনও শত্রু লুকিয়ে রয়েছে কি না কিংবা কিছুদূরে ওই বাঁকে কোনও বিপজ্জনক সংকেত রয়েছে কি না সেসব খালি চোখে ধরা নাও পড়তে পারে। কিন্তু আই ভি এস হেডসেট ব্যবহার করলে চোখের সামনের প্রতিটি দৃশ্যের ফ্রেম বাই ফ্রেম বিস্তারিত বিবৃতি আসবে মস্তিস্কে। সেইসঙ্গে কেবল কণ্ঠস্বর এবং হাত নেড়েই সংযোগ বজায় রাখা যাবে। এরফলে প্রভূত উপকৃত হবেন সৈন্যরা। তাঁদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার কথা ভেবেই এমন যন্ত্রের কথা ভেবেছে মাইক্রোসফট, কর্ণধার এমনটাই জানিয়েছেন একটি ব্লগ পোস্টে। এইধরনের হেডসেটগুলোর বাজার দর এখন তিন হাজার পাঁচশ ডলার।

মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সৈন্যরা হেডসট ব্যবহার করে নতুন প্রণালীতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন। এতে একধরনের চশমা রয়েছে যেটা রাতে ব্যবহার করলে হাই রেজলুশনের ভিসুয়াল পাওয়া যায়। এছাড়াও পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার হেরফের, সূক্ষ্মতম নড়াচড়া ইত্যাদির সতর্কতা জানান দেবার ব্যবস্থা থাকায় সৈন্যরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নতুন ধরনের এই প্রযুক্তিশিখন শত্রু মোকাবিলার কাল্পনিক পরিস্থিতিকে জীবন্ত করে তুলবে। ফলে এক মিশ্র বাস্তবতায় হাতাহাতি লড়াইয়ের কৌশল শিখে ভবিষ্যতে তাঁরা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবেন এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More