গর্ভবতী তরুণীকে বীভৎস খুন, প্রায় ৭০ বছর বাদে এক মহিলাকে প্রাণদণ্ড দিল আমেরিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০৭ সালে বিচারক মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন লিজা মন্টগোমারিকে। গত সোমবার প্রাণদণ্ড কার্যকর হল। ১৯৫৩ সালের পরে এই প্রথমবার আমেরিকায় প্রাণদণ্ড হল কোনও মহিলার। ৫২ বছর বয়সী লিজার অপরাধ ছিল গুরুতর। সন্তান না হওয়ার জন্য তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ২০০৪ সালে অনলাইনে তাঁর সঙ্গে ২৩ বছর বয়সী ববি জো স্টিননেটের আলাপ হয়। ববি কুকুরছানা বিক্রি করতেন। লিজার সঙ্গে আলাপ হওয়ার সময় ববি ছিলেন গর্ভবতী।

কুকুরছানা কেনার নাম করে লিজা ববির বাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। পরে ববির পেট কেটে ভ্রূণটি বার করে নেন। সোমবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড আদৌ কার্যকরী হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। লিজার কৌঁসুলিরা দাবি করেছিলেন, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ নন। তাঁকে আইনত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। সোমবার সন্ধ্যাতেও এক ফেডারেল বিচারক লিজার প্রাণদণ্ড কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখেন। সেই সময় চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ কিনা।

পরে আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ভোর ছ’টা বেজে ৩১ মিনিটে আমেরিকার জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানায়, ৫২ বছর বয়সী লিজা মন্টগোমারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। পরে বলা হয়, “ফেডারেল জুরিরা সর্বসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে মিসৌরির জেলা আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।”

মন্টগোমারির পক্ষের আইনজীবীরা তাঁর অপরাধের গুরুত্ব অস্বীকার করেননি। কিন্তু তাঁরা বলেন, অপরাধী মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অনৈতিক। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পরে কৌঁসুলি কেলি হেনরি বলেন, “একটা ব্যর্থ ও রক্তপিপাসু প্রশাসনের প্রকৃত চেহারা আজ রাতে দেখা গেল।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিজাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদনে সায় দেন। তবেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী হয়।

ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যেরা। ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তার আগেই ট্রাম্পকে পাকাপাকিভাবে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হয়েছিল। তা নিয়ে ভোটাভুটি চলছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব নিয়ে এখনও অবধি দুটি প্রস্তাব জমা পড়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। প্রথমত, মেয়াদ শেষের আগেই ট্রাম্পকে যাতে সরিয়ে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স যাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ক্যাবিনেটের কাছে এই প্রস্তাব রাখেন সেই চেষ্টাও শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে ইমপিচ করা হবে ট্রাম্পকে। হাউস মেজরিটি প্রধান স্টেনি হোয়ার বলেছেন, পেন্স যদি ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রস্তাব না রাখেন, তাহলে আগামীকাল থেকেই ইমপিচমেন্টের তোড়জোড় করবে ডেমোক্র্যাটরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More