দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদে অনেক হাসপাতালে নোটিশ, ‘ভ্যাকসিন আউট অব স্টক’

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে কোভিড ভ্যাকসিনের কোনও অভাব নেই। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ওই হাসপাতালগুলিতে প্রতিষেধকের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। ফের কবে ভ্যাকসিন আসবে তাদের জানা নেই। হাসপাতালগুলির বাইরে নোটিশ টাঙিয়ে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন আউট অব স্টক। যাঁরা ওই হাসপাতালগুলিতে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিলেন, তাঁদের বলা হয়েছে, আগে খবর নিয়ে জানবেন ভ্যাকসিন এসেছে কিনা, তারপরে আসবেন।

গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমে এলওয়াইএফ হাসপাতালের ডায়রেক্টর অলোক গুপ্ত বলেন, “সোমবার থেকে আমাদের ভ্যাকসিন নেই। তাই আমরা টিকা দেওয়া বন্ধ করেছি। ভ্যাকসিনের পরবর্তী স্টক কবে আসবে জানা নেই।” দীপক গুপ্ত নামে ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী অনেক চেষ্টা করেও ভ্যাকসিন নিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি তিন-চারদিন ধরে বিভিন্ন ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে গিয়েছি। কোথাও ভ্যাকসিন পাইনি।

দেশে ভ্যাকসিনের স্টক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের শুরু হয়েছে বিরোধ। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বুধবার বলেন, তাঁদের রাজ্যে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে, তাতে বড় জোর তিনদিন চলতে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের অভাব নেই। কয়েকটি রাজ্য নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করার জন্য ভ্যাকসিনের সংকটের কথা বলছে।

দিল্লির কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ৭১.৬৯ শতাংশ প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সারা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৮৫.৮ শতাংশ। দিল্লিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ৪১.৪৮ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ৫১.৪৯ শতাংশ।

এরপরে হর্ষবর্ধন বলেন, “এই তথ্য থেকে কি মনে হয় না যে, রাজ্যগুলি নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে? জনস্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।” দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন পাল্টা বলেন, “এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথভাবে অতিমহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত ছিল। তার বদলে কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লিকে দোষ দিতে ব্যস্ত হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দৈনিক সংক্রমণ শুধু নয়, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ঘুম কেড়ে নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। অ্যাকটিভ কেসের হার সাত শতাংশ, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও হয়নি দেশে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More