ঘরে ফিরতে চাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের লাথি মারা হল থানায়! ভাইরাল ভিডিও, সাসপেন্ড বেঙ্গালুরুর পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন তাঁরা, বদলে পেলেন লাথি!

পরিযায়ী শ্রমিকদের লাথি মারার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল বেঙ্গালুরুর এক পুলিশকর্মীকে। শুধু অভিযোগ নয়, সামনে এসেছে ঘটনাটির ভিডিও-ও। অতি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। তার পরেই তদন্ত হয় অভিযোগের। সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরে নেওয়া হয় পদক্ষেপ।

জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর বেঙ্গালুরুর কেজি হাল্লি পুলিশ স্টেশনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন কিছু ভিন্ রাজ্যের শ্রমিক। তাঁরা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। পেটের দায়ে বেঙ্গালুরু শহরে কাজ করছেন। তাঁরা দাবি করেন, লকডাউনের পর থেকে বন্ধ রোজগার, জুটছে না খাওয়া। জোগাতে পারছেন না বাড়ি ভাড়াও। তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক উত্তরপ্রদেশে। তাঁরা বলেন, ফেরার ব্যবস্থা না হলে থানা থেকে যাবেন না তাঁরা।

ভিডিও-তে দেখা যায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইস্পেক্টর রাজা সাহেব ওই শ্রমিকদের প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্রমিকরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলে মাথা গরম করে ফেলেন তিনি। সজোরে লাথি মেরে বসেন দুই শ্রমিককে।

ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি খবর পৌঁছয় ওপর মহলে। পদক্ষেপ করেন কর্তৃপক্ষ। সিনিয়ার পুলিশ আধিকারিক এসডি সাহারানাপ্পা বলেন, “ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইস্পেক্টরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।”

দেশে করোনা সংক্রমণের প্রকোপ রুখতে মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। সারা দেশ অবরুদ্ধ। এ পরিস্থিতিতে চরম বিপদে পড়েছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে নিজের গ্রামে ফিরতে দেখা গেছে তাঁদের। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে গিয়ে পথেই ফুরিয়েছে বহু প্রাণ। কেউ শিকার হয়েছেন দুর্ঘটনার, কেউ ক্লান্তির।

এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। কিন্তু তার পরেও নানা জটিলতার খবর মিলেছে দেশের নানা প্রান্ত থেকেই। মোদ্দা বিষয়, এখনও বহু অভিবাসী শ্রমিকের ঘরে ফেরা মসৃণ হয়নি মোটেও। তাঁদেরই প্রতিনিধি ছিলেন বেঙ্গালুরুর থানায় জমা হওয়া মানুষগুলো। ঘরে ফেরার ব্যবস্থার দাবি করতে গিয়ে যাঁদের জুটেছে পুলিশের লাথি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More