আমার ছেলে! সম্বলের মাস্ক পরিয়ে পোষ্যকে কাঁধে নিয়ে লম্বা যাত্রা, নেটবিশ্বে সাড়া ফেলেছে ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গায়ে ময়লা গেঞ্জি। সেটাও ছিঁড়ে গেছে। রোদে ঝামা মুখ। ঝরছে ঘাম। চোখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সপ্তাহান্তের বাজারহাট শুনশান। দেশজুড়ে বাড়ছে করোনা। তাই সংক্রমণ এড়াতে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি সকলে। এরই মধ্যে প্রায় জনহীন রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে লোকটা।

এটুকু ছবির মধ্যে আলাদা কিছু নেই। কিন্তু নজর টানে কাঁধে চড়ে বসা কুকুর। নিজে শতচ্ছিন্ন জামাকাপড় পড়লেও পোষ্যের আদরযত্নে যে এতটুকু খামতি নেই, সেটা একঝলক দেখলেই মালুম হয়। দিব্যি সাফসুতরো দেখতে। মনিবের বিশ্বস্ত কাঁধে ভর দিয়ে পথের দুলুনি উপভোগ করতে কর‍তে ভরদুপুরে ঘুম দিয়েছে সে।

এত দূর পর্যন্তও ঠিক ছিল। এরপর আরও মন দিয়ে তাকাতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! শুধু আপ্যায়ণই নয়। অনেকদিনের সঙ্গীর স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রেখেছেন মালিক। কুকুরের মুখে জড়ানো ত্রিস্তরবিশিষ্ট মাস্ক। সেটাও পরিষ্কার। এতটুকু দাগ লেগে নেই। কিন্তু দিন আনা দিন খাওয়া মানুষটার নিজের কপালেই কোনও মাস্ক জোটেনি। কিংবা হয়তো কাজের ব্যস্ততায় নিয়ে বেরোতে ভুলে গেছে। তাই পকেট থাকা একটিমাত্র মাস্ক নিজে ব্যবহার না করে পোষ্যের মুখে পরিয়ে দিয়েছেন তিনি! কুকুর-কাঁধে হন্তদন্ত হয়ে চলতে থাকা এই ভবঘুরের ভিডিও সম্প্রতি একজন ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেন। তারপরই সেটা ভাইরাল হয়। একজন দুস্থ, দরিদ্র মানুষের সারমেয়প্রীতি দেখে একইসঙ্গে ভালোবাসা ও বিস্ময় জানিয়েছেন অনেকে।

গত বছর লকডাউনে অনেক মনোবিদ পরামর্শ দেন, মনকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে পোষ্যদের সঙ্গে খেলাধুলো করুন। সেইমতো বাড়ির কুকুর কিংবা বিড়ালদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন অনেকে। দীর্ঘদিন বন্দিদশা কাটানোর মধ্যে এহেন স্বাদবদল অবসাদ দূর করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্যদের নিয়ে খেলার ভিডিও পোস্ট করেন কেউ কেউ। কিন্তু এই দরিদ্র মানুষটির মতো ভালোবাসা হয়তো কেউই দেখাতে পারেননি। নিজে মাস্ক না পরে কুকুরকে পরিয়েছেন কেন? প্রশ্নের জবাবে ধুঁকতে ধুঁকতে তিনি বলেন, ‘আমি মরে যেতে পারি। কিন্তু একে মরতে দেব না। আমার ছেলে হয় যে! ছোট থেকে কোলেপিঠে মানুষ করেছি।’ কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপিংসটি দেখে কেউ লিখেছেন, ‘একটা ছোট্ট ভিডিও আমার দিনটা সুন্দর করে দিল।’ আবার কারও প্রতিক্রিয়া, ‘কুকুরের প্রতি এতটা স্নেহ-মমতা আগে কোনওদিন দেখিনি।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More