গ্রীষ্মের অনেক দেরি, শীতেই জলসঙ্কট শুরু পুরুলিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাথায় কলসি নিয়ে জল আনতে চলেছেন দূর থেকে, এমন দৃশ্য রাজস্থানী চিত্রে ও ফোটোগ্রাফিতে দেখা যায়। তবে চাইলে এরাজ্যেও তা দেখতে পাবেন। না, পশ্চাদপটে বালি নেই তার বদলে বিটুমিন ঢালা ঝা চকচকে রাস্তার দৃশ্য পাবেন, কোথাও পেতে পারেন মাটির ঘর।

গরম আসতে ঢের দেরি, বর্ষার তো কোনও ঠিক ঠিকানা নেই কবে আসবে। তবে এখন থেকেই জলকষ্ট শুরু হয়ে গেছে পুরুলিয়ার ঘোঙ্গা গ্রামে। শহর থেকে দশ কিলোমিটার মতো দূরে এই গ্রাম। গ্রামে নলকূপ ছিল কিন্তু জলের স্তর নেমে যাওয়ায় এখন সেগুলি অকেজো হয়ে গেছে। তাই অন্তত এক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে জল আনতে হয় গ্রামের মহিলাদের। মাথায় কলসি নিয়ে ফিরতে হয় ওই পথ পার হয়েই। এখন না হয় শীত, বিটুমিনগলা গরমেও তাঁদের জল পাওয়ার এই একটিই উপায়। সেই স্কুলের নলকূপ খারাপ হয়ে গেলে কী হয়?

গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা রাজোয়ার বলেন, “ওই স্কুল থেকে আরও কিছুটা দূরে একটা বাঁধ আছে। সেই বাঁধের কাছ থেকে জল আনতে হয়। যারা যেতে পারে না তাদের পুকুরের জলই খেতে হয়।” পুকুরের জল মানে সেখানে কাপড় কাচা, বাসন ধোওয়া – সবই তো হয়। কোনও সমস্যা হয় না সেই জল খেতে? পূর্ণিমা বলেন, “শরীর খারাপ হয় অনেক সময়, তখন ডাক্তার দেখাতে হয়।” ডাক্তার দেখানো মানে পুরুলিয়ায় গিয়ে দেখানো। আর নলকূপ অকেজো হয়ে যাওয়ার পরেও রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে যেতে হবে ইঁদারায়, তাও বেশ দূরে।

একে জলের সমস্যা, তার উপরে রোগ হলে তো কথাই নেই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে অনেক বার পঞ্চায়েতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বিধায়ককেও বহলা হয়েছে সমস্যার কথা। কেউই কিছু করছে না।

ভৌগোলিক ভাবে পাথর ও মাটির এই জেলায় আজও জল সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। বর্ষাকাল বাদে প্রায় সারা বছর জলের সমস্যা থাকে, গ্রীষ্মে সমস্যা বাড়ে। এবার গরম পড়ার অনেক আগে থেকেই সমস্যা শুরু হয়ে গেছে। সেই স্কুল থেকে জল আনতে হচ্ছে প্রত্যেক দিন। দৈনন্দিন কাজকর্মের ব্যাপারে ভরসা সেই ডোবার জল।

গ্রামের মানুষজন চাইছেন রাজ্য প্রশাসন এব্যাপারে উদ্যোগী হোক। গ্রামে একটা ঠিকঠাক নলকূপ বসালে তাঁদের যে অনেকটাই উপকার হবে সেকথা বলছেন গ্রামবাসীরা।

ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে উদ্ধৃত করে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে সমস্যার কথা শুনে এই এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর কথা বলেছেন। সেক্ষেত্রে অনেক সময় লাগবে। আমরা চাই আপাতত স্থানীয় প্রশাসনকে (গ্রামপঞ্চায়েত) দিয়ে খারাপ হয়ে যাওয়া নলকূপ সারানো হোক, তাকে সমস্যা অনেকটা মিটবে।”

বর্ষাকাল ছাড়া এখানে সারা বছরই জলের সঙ্কট। ধান ও আনাজ যেটুকু যা হয় সবই আকাশের জলের ভরসায়। গরমকালে জলের সঙ্কট এখানে রুটিন ব্যাপার। তবে সাম্প্রতিত অতীতে এখানে শীতের মাঝামাঝি সময় থেকে এত জলকষ্ট হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More