অবস্থান চলবে, সরকার যেন শাহিনবাগের প্রতিবাদের মতো কৃষক আন্দোলনকে না দেখে, হুঁশিয়ারি টিকায়েতের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের দিকে নজর আমজনতার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ফল নিয়ে কৌতূহল সবার। কিন্তু মিডিয়া, সাধারণ মানুষের নজরের কেন্দ্রে না থাকলেও কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের অবস্থান আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী সরকার কৃষি আইন বাতিলের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে ভারতীয় কৃষক ইউনিয়ন (বিকেইউ) নেতা রাকেশ টিকায়েত জানিয়ে দিলেন, নয়া কৃষি আইন বাতিল হলেই প্রতিবাদীরা ঘরে ফিরবেন। সরকার যেন চলতি কৃষক আন্দোলনকে গত বছরের দিল্লির শাহিনবাহের প্রতিবাদের মতো না দেখে, বলেন তিনি। যাবতীয় কোভিড সতর্কতা বিধি  মেনে প্রতিবাদী কৃষকরা দরকার হলে ২০২৩ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা করেন টিকাইত। বলেন,  আইনগুলি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না কৃষকরা। ওরা করোনাভাইরাসের বিপদের কথা  বলে, কিন্তু আমরা সরকারকে বলে দিয়েছি, তাদের এই আন্দোলনকে শাহিনবাগের প্রতিবাদের মতো দেখা উচিত নয়। এই আন্দোলন শেষ হবে না। করোনা সতর্কতা বিধি মেনে দাবি পূরণ হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শাহিনবাগের প্রতিবাদ অবস্থান দেশের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ২০১৯ এর ডিসেম্বর শুরু হওয়া ধরনা বেশ  কয়েক মাস চলেছিল। কয়েক হাজার মানুষ দিনরাত সেখানে বসেছিলেন সিএএ বাতিলের  দাবিতে। করোনাভাইরাস অতিমারী ঠেকাতে দেশব্যাপী লকডাউন জারির আগের দিন ২০২০-র ২৪ মার্চ দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের তুলে দেয়।

কেন্দ্রের কৃষি আইনগুলি কেবল কৃষকদের ক্ষতিই করবে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ২০২৩ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হলে সেজন্য তাঁরা তৈরি। এই আইনগুলি বাতিল ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) ওপর নতুন আইন তৈরি হওয়া পর্যন্ত কৃষকরা বাড়ি ফিরবেন না। পাশাপাশি তাঁরা সরকারের সঙ্গে কথা বলতে তৈরি বলেও ফের জানান টিকায়েত। বলেন, সরকারের যখনই সময় হবে, আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ওদের ডাকের অপেক্ষায় থাকব।

যদিও কেন্দ্রের দাবি, নতুন কৃ্ষি আইনগুলি চাষিদের  দালালদের খপ্পর থেকে রক্ষা করে তাদের ফসল বিক্রির আরও রাস্তা খুলে দেবে। কিন্তু আইনগুলি এমএসপি সিস্টেম দুর্বল  করে  তাদের বড় কর্পোরেটদের দয়াদাক্ষিণ্যের মুখাপেক্ষী করে তুলবে বলে পাল্টা দাবি উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পঞ্জাবের চাষিদের। তাঁরা দিল্লি ঢোকার তিনটি পয়েন্ট সিঙ্ঘু, টিকরি, গাজিপুরে ক্যাম্প করে বসে রয়েছেন কয়েক মাস ধরে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More