কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি, ভারতকে বার্তা পাঠাল ফ্রান্স

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৩০ জন। মারা গিয়েছেন ২২৬৩ জন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ফ্রান্স। শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মাকরঁ বলেন, “আমি ভারতের মানুষের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। সেখানে নতুন করে কোভিড ১৯ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে আছে ফ্রান্স।” শুক্রবার টুইট করে মাকরঁ-র বক্তব্য সকলকে জানান ভারতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এম্মানুয়েল লেনাইন।

ফ্রান্সের সরকার গত বুধবার ঘোষণা করেছে, ভারত থেকে কেউ তাদের দেশে গেলে ১০ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, রবিবার থেকে ১০ দিন ভারত থেকে কেউ ওই দেশে যেতে পারবেন না। মার্কিন নাগরিকদেরও ভারতে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে ভারতে মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন মোট ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৯২০ জন। মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ তুফানের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে গিয়েছে।

কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের অভাব। বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে বেডও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এদিন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারকেই এতগুলো মৃত্যুর দায় নিতে হবে। তাঁর যুক্তি, করোনায় আক্রান্ত হলে রোগীর রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠলে তাঁকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে হয়। অক্সিজেন ও আইসিইউ বেডের অভাবে অনেকে মারা গিয়েছেন।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল জানাচ্ছে, তাদের অক্সিজেনের স্টক ফুরিয়ে এসেছে। শুক্রবার সকালে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হসপিটাল জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সবচেয়ে অসুস্থ’ চারজন মারা গিয়েছেন। সকাল আটটা নাগাদ এক এসওএস পাঠিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, তাদের কাছে যে পরিমাণে অক্সিজেন আছে, তাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে। ৬০ জন রোগীর অবস্থা উদ্বেগজনক।

গঙ্গারাম হাসপাতালের ডিরেক্টর বিবৃতি দিয়ে বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে অসুস্থ ২৫ জন মারা গিয়েছেন। আমাদের কাছে যে পরমাণ অক্সিজেন আছে, তাতে চলবে মাত্র দু’ঘণ্টা। ভেন্টিলেটর ও তার সহযোগী আর একটি যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। আমরা আইসিইউ এবং এমার্জেন্সিতে ম্যানুয়াল ভেন্টিলেটর দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। আমাদের ৬০ জন রোগী গুরুতর অসুস্থ। অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More