আস্থাভোটে আমরাই জিতব, দাবি সনিয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রশংসায় শরদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর খুশির হাওয়া বইছে বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বলেছেন, “আস্থাভোটে আমরাই জিতব।” এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রশংসা করে বলেন, বিচারপতিরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, “শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত অবৈধ দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও অজিত পাওয়ারের সরকারের গালে চড় কষিয়েছে। তাঁরা জনাদেশকে হাইজ্যাক করতে চেয়েছিলেন।”

এদিন শীর্ষ আদালত বলে, মহারাষ্ট্রে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকারকে গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। বিধানসভায় আস্থাভোট নেবেন প্রোটেম স্পিকার। রাজ্যপাল তাঁকে নিয়োগ করবেন। আস্থাভোটের পুরো প্রক্রিয়া দূরদর্শনে লাইভ দেখাতে হবে। গোপন ব্যালটে ভোটাভুটি হবে না।

২৮৮ আসনবিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে চাই ১৪৫ জন বিধায়ক। সোমবার সন্ধ্যায় শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস ১৬২ জন বিধায়ককে মুম্বইয়ের এক হোটেলে হাজির করে। এরপর মঙ্গলবার বিচারপতিরা বলেন, “যদি বিধানসভায় আস্থাভোট নিতে দেরি হয়, তাহলে বিধায়ক কেনাবেচার সম্ভাবনা থাকে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করা আদালতের দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আস্থাভোট নিলেই গণতন্ত্র রক্ষা পেতে পারে।”

সুপ্রিম কোর্ট এদিন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিকে নির্দেশ দেয়, বুধবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে প্রত্যেক নবনির্বাচিত বিধায়ককে শপথ নেওয়াতে হবে। তারপর হবে আস্থাভোট।

গত শনিবার মহারাষ্ট্রে আচমকাই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন এনসিপির অজিত পাওয়ার। যেভাবে তাঁরা শপথ নিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করে শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস।

সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে বলে, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিকে ১৭০ জন বিধায়কের সমর্থকের চিঠি দেখিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এনসিপি-র ৫৪ জন বিধায়ক। সোমবার দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু অজিত পাওয়ার এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

বিজেপির তরফে প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি শীর্ষ আদালতে বলেন, “আমাদের পক্ষে ১৭০ জন বিধায়ক আছেন। আমরা ১৭০ জন বিধায়কের সই করা চিঠি রাজ্যপালের হাতে দিয়েছি। চিঠিটি জাল নয়।”

কংগ্রেস জোটের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, “বিজেপি জালিয়াতি করে সরকার গঠন করেছে।” তাঁর প্রশ্ন, “এত তাড়াতাড়ি মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটানোর কী ছিল? সন্ধ্যা সাতটা থেকে ভোর পৌনে ছ’টার মধ্যে এত কিছু ঘটে গেল কেন? রাজ্যপাল কি ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারতেন না?”

মুকুল রোহতগি বলেন, “বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষার আগে সরকারকে আরও সময় দেওয়া উচিত। তার আগে বিধানসভার একজন স্পিকার নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন।” এনসিপি-র পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “সেক্ষেত্রে অজিত পাওয়ার চেষ্টা করবেন যাতে স্পিকার নির্বাচনের আগে হুইপ জারি করা যায়। কিন্তু তা হবে বেআইনি। কারণ তিনি আর এনসিপি-র পরিষদীয় দলের নেতা নন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More