শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

সুতোয় বোনা স্বপ্ন, বাংলার কাঁথা স্টিচে তালিম নিতে বর্ধমানে অস্ট্রেলিয়ার পড়ুয়ারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাপড়ে ফুটছে নতুন জীবনের স্বপ্ন। সুঁচ-সুতোর বুননে ভেসে বেড়াচ্ছে চাঁদসদাগরের ডিঙা। একটা সুতোর উপর দিয়ে অন্য সুতো, তার ভিতর দিয়ে আর এক সুতো… বুনে চলে গল্প, গান, কথা আর তৈরি হয় এক একটা ফ্যাব্রিক। এরা নিজেদের সৌন্দর্যে স্বতন্ত্র। কাঁথা স্টিচ বাংলার এমনই ঐতিহ্য, যা জন্ম দেয় শত শত রূপকথার। বাংলার মাটিতে বসে এই রূপকথারই গল্প লিখলেন অস্ট্রেলিয়ার এক ঝাঁক পড়ুয়া।

বর্ধমানের কালিবাজারের একটি বেসরকারি বুটিকে এক দিনের কর্মশালায় যোগ অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাফট বিভাগের কুড়ি জন ছাত্রছাত্রী। নিজের হাতে তাঁদের কাঁথা স্টিচের কাজ শেখালেন বুটিকের প্রধান ডিজাইনার মৌমিতা দে। দিনভর চলে ট্রেনিং। কাপড়ে ভারতী ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে পেরে খুবই খুশি কিমবারালি ডার্কে, রোক্সানা কিনটেল, হুইপিং গুও ও জওডান টোকেরা।

পড়ুয়াদের এই দলের সঙ্গে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাফট বিভাগের শিক্ষিকা লিজ উইলিয়াম। তাঁরই তত্ত্বাবধানে কাঁথা স্টিচের কাজ শিখতে বর্ধমানে আসেন পড়ুয়ারা। একজন ছাত্র আর উনিশ জন ছাত্রী। লিজ জানিয়েছেন, ভারতের শিল্পকলার উপর পড়ুয়াদের আগ্রহ তৈরি করতেই তাঁদের ভারত ভ্রমণের সিদ্ধান্ত। জানুয়ারি মাসে তাঁরা ভারতবর্ষে আসেন। তারপর থেকে দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে হারিয়ে যাওয়া শিল্প, ফ্যাব্রিকের কাজ শিখছেন। হস্তশিল্পের উপর প্রশিক্ষণ নিতে এর আগে তাঁরা গেছিলেন গুজরাট। সেখান থেকে কলকাতা হয়ে গত বৃহস্পতিবার বর্ধমানে পৌঁছন।

‘‘প্রথমে কাগজে আঁকা হয় ডিজাইন, তারপর সেটা ফুটিয়ে তোলা হয় কাপড়ে। সবকিছুই শিখেছে ভিনদেশী পড়ুয়ারা। আমাদের আটজন ডিজাইনার হাতে ধরে কাজ শিখিয়েছেন তাঁদের,’’ বললেন মৌমিতা। গল্প, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে হই হই করে চলেছে ট্রেনিং। পড়ুয়াদের আগ্রও নাকি ছিল দেখার মতো। খুঁটিয়ে সব বিষয়ে জেনে নিচ্ছিলেন তাঁরা।

মৌমিতা জানিয়েছেন, নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাফট বিভাগের শিক্ষিকা লিজের সঙ্গে তাঁর আলাপ অনেকদিনের। ফ্যাব্রিক সংক্রান্ত কাজেক সূত্রেই পরিচয়। অস্ট্রেলিয়ার পড়ুয়ারা ভারতের কাঁথা স্টিচের কাজ শিখতে আগ্রহী, এই কথা মৌমিতাকে জানিয়েছিলেন লিজ নিজেই। ভারতের আসার দিনক্ষণও ঠিক হয় তার পরেই। হাতে বোনা এই ফ্যাব্রিক এখনকার দুনিয়ায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তার কারণ মেশিন। মেশিনে যত দ্রুত যত বেশি কাপড় তৈরি করা সম্ভব, হাতে তা হয় না। কিন্তু হাতে বোনা কাপড়ের সৌন্দর্য মেশিনে তৈরি কাপড়ের চেয়ে অনেক বেশি। তার বুনন, গঠন সবই আলাদা। পারস্পরিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে ভারতের শিল্পশৈলী এ ভাবেই বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করেন মৌমিতা।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.