লস্কর, জৈশের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান, বললেন আমেরিকার ভাবী প্রতিরক্ষা সচিব

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। তিনি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনে প্রতিরক্ষা সচিব হবেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল লিয়ড অস্টিন। মঙ্গলবার সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির কাছে লিয়ড ঘোষণা করেন, আগামী দিনে আমেরিকার প্রতিরক্ষা নীতি কী হতে চলেছে। সেখানে তিনি বলেন, আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক আরও গভীর হবে। পাকিস্তান সম্পর্কে তিনি বলেন, ইমরান খানের প্রশাসন এখনও লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি।

লিয়ড অস্টিন বলেন, “আগামী দিনেও ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার থাকবে। নানা ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করবে ভারত ও আমেরিকার সেনাবাহিনী।” পাকিস্তান সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা আফগানিস্তানে শান্তিপ্রক্রিয়া চালানোর ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা নিয়েছে। ভারতবিরোধী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধেও তারা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তারা এখনও যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি।

২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সন্ত্রাসবাদ দমনে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি ইসলামাবাদ। অস্টিন বলেন, তিনি পাকিস্তানের ওপরে চাপ দেবেন যাতে তারা দেশে জঙ্গিদের ঘাঁটি বানাতে না দেয়। আগামী দিনে আমেরিকা পাকিস্তানের সেনা কর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে। আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সকে পুরোপুরি পরাজিত করার জন্য আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করবে পাকিস্তান।

গত সেপ্টেম্বর মাসে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে বৈঠক করে ভারত ও আমেরিকা। তারপর এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ বলে, পাকিস্তানের মাটি থেকেই নাশকতা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। ইসলামাবাদই তাদের নিরাপদ আশ্রয়। পাক সরকারের মদতেই সীমান্তে লাগাতার অশান্তি করে যাচ্ছে পাক বাহিনী। অন্যদিকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা ও ২০১৬ সালের পাঠানকোট হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে সেই বৈঠকে। দুই দেশই প্রশ্ন করে, ২৬/১১ মুম্বই হামলা ও পাঠানকোট হামলায় জড়িত সন্ত্রাসবাসীদের শাস্তি দিতে কী ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তান? জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট দিক ইমরান সরকার। সীমান্ত সন্ত্রাসে যুক্ত জঙ্গিদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় ওই বৈঠকে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আল-কায়দা, ইসলামিক স্টেট, লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ,  হাক্কানি নেটওয়ার্ক, হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনগুলি পাকিস্তানের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয়েই বেড়ে উঠছে। সন্ত্রাসে পরোক্ষে মদত দিয়েও নিরীহ সাজার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More