আপনি কি ধূমপায়ী! জেনে রাখুন এই তথ্যগুলো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২১ সালে ‘কমিট টু কুইট’ নামে বিশ্বব্যাপী ‘নো তামাক দিবস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ডাব্লুএইচও থেকে একটি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে যেখানে তামাক না খাওয়ার ১০০টারও বেশি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আর গোটা পৃথিবীতে সেটা নিয়ে প্রচারও করা হবে বলে জানা গেছে।

আর্টিকেলে বলা হয়েছে, “এবছরে করোনার জন্য অনেকেই তামাক ছাড়তে চেয়েছেন। কারণ যাঁরা ধূমপান করেন তাঁদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। তবে তামাক ছাড়াটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণেও অনেকে এই বাজে নেশা থেকে বের হতে চান।”

প্রতিবেদনে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণ বলা হয়েছে। যেগুলো হল:

১. তামাক আপনার চেহারার ওপরে বাজে প্রভাব ফেলে। তামাক কীভাবে দাঁতকে হলুদ করে তোলে, দাঁতের ফলক নষ্ট করে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে সে বিষয়ে বিশদে আলোচনা রয়েছে এখানে। এছাড়াও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দেয়। শরীরে ভিটামিন এ-এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। রক্তচলাচল ঠিক মতো হয় না, ফলে মুখে বলিরেখা দেখা যায়। ধূমপানের ফলে  সোরায়্যাসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, ত্বকে চুলকানিও হয়।

২. ধূমপান পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের জন্যও ক্ষতুকারক। গবেষণাতে দেখা গেছে প্রতিবছর দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন প্যাসিভ স্মোকিংয়ের জন্য। ধূমপান যক্ষ্মা ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়।

৩. বাচ্চাদের ওপর এটা খুব খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলে। ডাব্লুএইচও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ধূমপানের ফলে যে ধোঁয়া পরিবেশে উন্মুক্ত হয় তা বাচ্চাদের ফুসফুসের খুবই ক্ষতি করে। পরবর্তীকালে বাচ্চাদের হাঁপানির মতো রোগ হতে পারে। যাঁদের বাড়িতে ২ বছর বয়সের কম বাচ্চা আছে, তাঁদের ধূমপান করা অনুচিত। প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে ধোঁয়ার জন্য বাচ্চাদের কানের রোগ হতে পারে, এমন কি তারা বধিরও হয়ে যেতে পারে।

৪. ধূমপানের জন্য খরচ হয় অনেক টাকাও। ডাব্লুএইচও উল্লেখ করেছে, “একটি গবেষণাতে দেখা গেছে যে ধূমপায়ীরা নিজেদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে ১.৪ মিলিয়ন ডলার ধূমপানের পেছনে খরচ করেন। যদিও এর মধ্যে ধূমপানের কারণে অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা খরচও রয়েছে। যদিও অনেক সময় খরচের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।”

৫. ধূমপান ছেলে ও মেয়েদের শরীরে নানাভাবে প্রভাব ফেলে। এর ফলে নারী পুরুষ উভয়েই ফার্টিলিটি ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। মেয়েদের গর্ভাধারনে সমস্যা হয়, আর ছেলেদেরও শুক্রাণুর সংখ্যা অনেক কমে যায়। এমন কি সব শুক্রাণু মারা পর্যন্ত যেতে পারে।

৬. ধূমপান দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতার ওপরে প্রভাব ফেলে। চোখে ছানি পড়তে পারে এর কারণে, আবার অনেক সময় গ্লুকোমা হওয়ার সম্ভবনাও থাকে।

৭. তামাক পরিবেশকেও দূষিত করে। সিগারেটের বাটগুলো জমতে জমতে পাহাড় প্রমাণ হয়ে যায় যা পরিবেশ দূষণ করে। আর্সেনিক, সীসা, নিকোটিন এবং ফর্মালডিহাইড সহ সিগারেটের বাটগুলো খুবই বিপজ্জনক।এগুলো জলজ পরিবেশ ও মাটিকেও দূষিত করে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More