শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

রাজনৈতিক দলগুলির বেশিরভাগ টাকা আসে গোপন সূত্র থেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস কী?

গণতন্ত্রে বলা হয়, জনগণই ক্ষমতার উৎস। তাঁদের ভোটেই কোনও দল সরকার গড়ে। কিন্তু ভোটে লড়তে গেলে চাই টাকা। টাকার জোরে কখনও ভোটপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করে, জনগণের কথা ভেবেই তারা কর্মসূচি তৈরি করেছে। বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, যারা রাজনৈতিক দলগুলিকে টাকা দিয়েছে, তাদের সুবিধার কথা ভেবেই ঠিক হয় কর্মসূচি। কিন্তু কারা টাকা দেয় দলগুলিকে? একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগের পরিচয়ই গোপন।

ভোটে টাকার খেলা বন্ধ করতে সক্রিয় হয়েছে বহু দেশ। রাজনৈতিক দলগুলিকে বলা হয়েছে, কারা তাদের টাকা দেয় প্রকাশ্যে জানাতে হবে। ভোটাররা সব জেনেশুনে স্থির করবেন, ভোট দেবেন কাকে? কিন্তু ভারতের ভোটে এমন স্বচ্ছতা নেই। এখানে অনেকে গোপনে রাজনৈতিক দলগুলিকে টাকা দিয়ে তাদের প্রভাবিত করতে চান।

এদেশের আইনে আছে, যাঁরা রাজনৈতিক দলগুলিকে ২০ হাজার টাকার কম অনুদান দেন, তাঁদের নাম না জানালেও চলবে। এরপর ২০১৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে মোদী সরকার নির্বাচনী বন্ডের কথা ঘোষণা করে। তার সাহায্যে কোনও পার্টিকে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দিয়েও কেউ নাম গোপন রাখতে পারে। এর ফলে জাতীয় দলগুলির তহবিলে অর্ধেকের বেশি টাকা আসে বেনামি সূত্র থেকে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস নামে এক সংস্থা ২৩ জানুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলির পাওয়া অনুদান নিয়ে কয়েকটি তথ্য প্রকাশ করে। তাতে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালে সিপিএম বাদে ওপর পাঁচটি রাজনৈতিক দল ৬৮৯.৪৪ কোটি টাকা পেয়েছিল অজানা সূত্র থেকে। তা দলগুলির মোট প্রাপ্ত অনুদানের ৫৩ শতাংশ। তাদের প্রাপ্ত অনুদানের ৩৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৬৭. ১৩ কোটি টাকা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের নাম জানা গিয়েছে। বাকি ১১ শতাংশ অর্থ এসেছে সদস্য চাঁদা ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি থেকে।

রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান পায় বিজেপি।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে বিজেপি পেয়েছে ৪৩৭.০৪ কোটি টাকা। সবক’টি দল মিলে যত অনুদান পেয়েছে, তার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে তার ৯৩ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ২৬.৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলির মোট প্রাপ্ত অনুদানের ৫.৬৭ শতাংশ।

রাজনৈতিক দলগুলি বেনামি সূত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ পেয়েছে, তার ৫১ শতাংশ ক্ষেত্রে দাতারা দিয়েছেন ২০ হাজার টাকার কম। কিন্তু ৩১ শতাংশ অর্থ বেনামি দাতারা দিয়েছেন নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে। নির্বাচনী বন্ড হল এক ধরনের প্রমিসরি নোট। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি টাকা দিয়ে ওই বন্ড কেনা যায়। ওই বন্ড যাঁরা কেনেন, তাঁদের নাম জানানো হয় না। ২০১৭-১৮ সালে যত নির্বাচনী বন্ড বিক্রি হয়েছিল, তার ৯৫ শতাংশ কিনেছেন বিজেপি সমর্থকরা।

গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলা বলেন, রাজনীতিতে কালো টাকার খেলা গোপন রাখতে নির্বাচনী বন্ড এক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নির্বাচনী বন্ড বিক্রি শুরু হয়। সেই আর্থিক বছরে মাত্র তিন মাসের জন্য ওই বন্ড পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাতেই রাজনৈতিক দলগুলির আয় বেড়েছিল ব্যাপক। ২০১৮-১৯ সালের আর্থিক বছরে প্রথম ন’মাসে ৮৩৪.৭ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয়েছে।

Shares

Comments are closed.