মমতার ফোনে আড়ি পাতল কে, মুকুলেরই বা কে, দিদি-অমিতের চাপানউতোর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় প্রথম দফার ভোটের দিন একটি অডিও ক্লিপ নিয়ে হইহই পড়ে গিয়েছিল। নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালকে ফোন করে ‘হেল্প’ চেয়েছিলেন দিদি।

তার পাল্টা হিসেবে কুণাল ঘোষরা আরএকটি অডিও ক্লিপ সামনে এনেছিলেন। তাতে শোনা গিয়েছিল মুকুল রায় ও শিশির বাজোরিয়ার কথোপকথন। কারা বুথে এজেন্ট হতে পারবেন সেই নিয়মাবলী বদলের বিষয় কমিশনকে জানানোর জন্য শিশির বাজোরিয়াকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন মুকুলবাবু।

ওই অডিও টেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাফ জানিয়েছিলেন, মুকুল রায় কোনও অন্যায় কথা বলেননি। সেইসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু এই ফোন ট্যাপ করল কে? শাহের নিশানা ছিল মমতা বন্দদ্যোপাধ্যায়ের দিকেই।

শীতলকুচি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পার্থপ্রতিম রায়ের যে অডিও টেপ গতকাল বিজেপি ফাঁস করেছে তা নিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ তুললেন দিদি। এদিন পূর্বস্থলীর সভায় মমতা বলেন, “আপনি আমার ফোন ইন্টারসেপ্ট করেছেন ,আপনার লজ্জা করে না! আপনি আগে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করুন। তারপর মানুষকে মুখ দেখাবেন। আপনার লজ্জা করে না একজন চিফ মিনিস্টারের ফোন ইন্টারসেপ্ট করতে।”

এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছেও ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। ডেরেক ও ব্রায়েন, যশবন্ত সিনহা, পূর্নেন্দু বসুরা দাবি জানিয়েছেন, ফৌজদারি মামলা রুজু করে তদন্ত করা হোক।

এদিন দুপুরে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল আবার কমিশনের দফতরে গিয়েছিল। ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘ওই অডিও ক্লিপটি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের এক নেতার মধ্যে হয়েছে। নেটমাধ্যমে তাঁদের মধ্যে কেউ এক জন এটা প্রকাশ করেছেন।’’ একই সঙ্গে স্বপনের দাবি, ‘‘এটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ভাইরাল করা হয়েছে। নির্বাচনে ফায়দা তোলার জন্য এই অডিও টেপের মাধ্যমে মেরুকরণের চেষ্টা করছে তৃণমূল। আমরা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’’

এ ব্যাপারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “আমি তো বলেছি, দুটো মডেলই এক। যাহা মোদী, তাহাই দিদি। দুটো দলেরই ডিএনএ-তে স্বৈরাচার রয়েছে। এরা ফোন সবার ফোন ট্যাপ করে।”

এমনিতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ অনেক দিনের। বিরোধী নেতা, সাংবাদিকদের ফোন তো বটেই, তৃণমূলের নেতাদের ফোনেও আড়ি পাতা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল ছাড়ার পর এই অভিযোগ একাধিকবার করেছেন শুভেন্দু অধিকারীও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More