শ্রীলঙ্কাতে লঙ্কাকাণ্ড! মিসেসদের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নিয়ে চুলোচুলি, জল গড়াতে পারে কোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীলঙ্কাতেই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেল! তবে রাবণের লঙ্কা নয়, এবার শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেই ঘটে গেল এমন ঘটনা। সকলের সামনেই বিজয়নীর মাথা থেকে খুলে নেওয়া হল জয়ের মুকুট! ২০২১ এ দাঁড়িয়েও দেশ কাল নিরিখে বেশিরভাগ মানুষের ভাবনা ও সমাজ যে পিছিয়ে রয়েছে সে দিকটা আবার উঠে এলো!

সদ্য সমাপ্ত ‘মিসেস শ্রীলঙ্কা’ প্রতিযোগিতা থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। রবিবার কলম্বোর নীলম পোকুনা মহিন্দা রাজাপক্ষ থিয়েটারে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ের ফলাফল ঘোষণা হয়। এই প্রতিযোগিতার ২০২০-’২১ বর্ষের বিজয়িনী ঘোষিত হন ৩১ বছরের পুষ্পিকা ডি সিলভা।নাম ঘোষণা হওয়ার পর নিয়মমাফিক পুষ্পিকার মাথায় মুকুটও ওঠে। নিজে হাতে তা পুষ্পিকার মাথায় তুলে দেন ২০১৯-’২০ বর্ষের বিজয়িনী ক্যারোলিন জুরি। তারপর মাইক হাতে বক্তৃতা করার সময় পুষ্পিকাকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করতে শুরু করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি সকল দর্শকের সামনে পুষ্পিকা নিয়ে বলেন যে, পুষ্পিকা ওই মুকুটের যোগ্য নন। কারণ এই প্রতিযোগিতা বিবাহিত মহিলাদের জন্য। স্বামী-সংসারের মধ্যে থেকে, সমস্ত দায়িত্ব পালন করেও যাঁরা অনন্য হয়ে উঠেছেন, তাঁরাই প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর যোগ্য। পুষ্পিকার বিয়ে হলেও বিচ্ছেদ ঘটে গিয়েছে। ক্যারোলিনের দাবি, এই কারণে সেরার শিরোপা পাওয়ার যোগ্য নন তিনি।এর পরেই কার্যত চুলোচুলি শুরু করে দেন ক্যারোলিনা। মাইক রেখে পুষ্পিকার দিকে এগিয়ে যান তিনি। পুষ্পিকার মাথার মুকুট ধরে টানাটানি শুরু করে দেন। চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে শেষমেশ মুকুটটি পুষ্পিকার মাথা থেকে খুলে নেন তিনি। তার পর সকলকে অবাক করে প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর মাথায় মুকুট তুলে দেন।

এরপরই, পুরো বিষয়টি নিয়ে তুলকালাম শুরু হয়ে যায়। প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন নেটাগরিকরা। অন্যান্য দেশেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। তাতে নড়েচড়ে বসেন উদ্যোক্তারা। দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর থেকে মুকুট পুষ্পিকাকে ফেরত দেন তাঁরা। বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, গোটা ঘটনায় পুষ্পিকার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।

এরপরে তাঁর মাথায় মুকুট ওঠে, ও তাঁকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন উদ্যোক্তারা। তখন পুষ্পিকা প্রশ্ন তোলেন যে তাঁর বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলার অধিকার কারও নেই। আর তাঁর আইনত বিচ্ছেদ হয়নি, তিনি শুধু আলাদা থাকেন এবং একার হাতেই সন্তানকে বড় করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর স্বামীও তাঁকে সমর্থন করেছেন। তবে পুষ্পিকা ব্যাপারটা এত সহজে ছেড়ে দেবেন না বলেই জানান! এই জল গড়াতে পারে কোর্ট পর্যন্ত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More