রাজধানীতে টিকাকরণের হার কম কেন? হর্ষবর্ধনের প্রশ্নের জবাব দিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রের মতো কোভিড ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে দিল্লিতেও। সেখানকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, রাজধানীতে ভ্যাকসিনের যে স্টক রয়েছে, তাতে চার-পাঁচদিন চলতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন প্রশ্ন তুলেছিলেন, দিল্লিতে টিকাকরণের হার সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে কম কেন? এদিন সত্যেন্দ্র জৈন তার জবাবে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম টিকাকরণ হয়েছে। সেজন্য দিল্লির টিকাকরণের হার কমেছে।”

দেশে ভ্যাকসিনের স্টক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের শুরু হয়েছে বিরোধ। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বুধবার বলেন, তাঁদের রাজ্যে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে, তাতে বড় জোর তিনদিন চলতে পারে। হর্ষবর্ধন বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের অভাব নেই। কয়েকটি রাজ্য নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করার জন্য ভ্যাকসিনের সংকটের কথা বলছে।

দিল্লির কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ৭১.৬৯ শতাংশ প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সারা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৮৫.৮ শতাংশ। দিল্লিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ৪১.৪৮ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ৫১.৪৯ শতাংশ।

এরপরে হর্ষবর্ধন বলেন, “এই তথ্য থেকে কি মনে হয় না যে, রাজ্যগুলি নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে? জনস্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।” সত্যেন্দ্র জৈন পাল্টা বলেন, “এখন কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে অতিমহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত ছিল। তার বদলে কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লিকে দোষ দিতে ব্যস্ত হয়েছে।”

পরে তিনি বলেন, “যাঁরা ভ্যাকসিনের জন্য এসেছেন, তাঁদের কাউকেই আমরা ফিরিয়ে দিইনি। দিল্লিতে টিকাকরণের হার ৭৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলিতে টিকাকরণ হয়েছে ৩০ শতাংশ কম। আমরা যথাসম্ভব দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

বুধবার দিল্লিতে ৫৫০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হন। চলতি বছরে আর কখনও একইদিনে এতজন আক্রান্ত হননি। এই নিয়ে পরপর দু’দিন দিল্লিতে ৫ হাজার জনের বেশি করোনায় আক্রান্ত হলেন। গত ১১ নভেম্বর দিল্লিতে ৮৫৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হন। রাজধানীতে সংক্রমণের সেটাই রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দৈনিক সংক্রমণ শুধু নয়, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ঘুম কেড়ে নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। অ্যাকটিভ কেসের হার সাত শতাংশ, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও হয়নি দেশে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। অথচ এক মাস আগেই দৈনিক মৃত্যু ২০০-র নীচে নেমে গিয়েছিল। তবে মৃত্যুহার এখনও দুই শতাংশের নীচেই আছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More