পতঞ্জলি মানুষকে ভুল বোঝালে ব্যবস্থা নেব, বললেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেডের করোনিল ওষুধে করোনা সারে না। ওই কোম্পানি যদি মানুষকে ভুল বোঝাতে চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন অফিসার রাজেন্দ্র সিংগনে।

তাঁর কথায়, “পতঞ্জলির করোনিল দিয়ে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হয় না। পতঞ্জলি যদি করোনিলকে করোনার ওষুধ বলে চালাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মন্ত্রী বলেন, আয়ুষ মন্ত্রকও বলেছে, প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ বলে পতঞ্জলি বাজারে করোনিল বেচতে পারবে। রাজেন্দ্র সিংগনের মতে, ওষুধের নাম শুনে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন। পতঞ্জলির জানানো উচিত, ওই ওষুধে করোনা সারে না।

গত সপ্তাহে যোগগুরু রামদেবের এই কোম্পানি দাবি করে, করোনার ওষুধ তারা আবিষ্কার করেছে। তার নাম দেওয়া হয়েছে করোনিল। পতঞ্জলির তরফে দাবি করা হয়, ইতিমধ্যেই অনেক করোনা রোগীদের মধ্যে এই ওষুধের ট্রায়াল করা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তাঁদের সংক্রমণ সেরে গিয়েছে। বলা হয়, জয়পুরের একটি বেসরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের সঙ্গে মিলে তারা এই ট্রায়াল করেছে।

ওই দাবি নিয়ে হইচই পড়ে যায় নানা মহলে। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের তরফে পতঞ্জলিকে নোটিস পাঠিয়ে বলা হয়, এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানাতে। এছাড়া কাদের উপরে এই ট্রায়াল করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

কয়েকদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে রামদেব বলেন, সরকার থেকে বলা হয়েছে পতঞ্জলি ‘কোভিড ম্যানেজমেন্ট’-এর কাজ করেছে। ‘কোভিড ট্রিটমেন্ট’ কথাটি কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “আয়ুশ মন্ত্রক বলেছে, পতঞ্জলি কোভিড ম্যানেজমেন্টে ভাল কাজ করেছে। ওই সংস্থা সঠিক দিশায় কাজ শুরু করেছে। আমরা ওই ওষুধ তৈরির লাইসেন্স পেয়েছি। ট্রিটমেন্ট শব্দটি কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে না।”

পরে রামদেব বলেন, “আয়ুশ মন্ত্রকের সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ হয়নি। করোনিল, স্বাসরি, গিলয়, তুলসি এবং অশ্বগন্ধার মতো ওষুধ বিক্রিতে কোনও বাধা নেই। আয়ুশ মন্ত্রক ও নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই।”

সরকার পতঞ্জলির ওষুধ পরীক্ষা করে দেখার পাশাপাশি জয়পুরে রামদেব, পতঞ্জলির সিইও আচার্য বালকৃষ্ণ ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা করোনার ওষুধের নাম করে মানুষকে ঠকাতে চাইছেন। রামদেব বলেন, মনে হচ্ছে, ভারতে যোগ ও আয়ুর্বেদের চর্চা করা রীতিমতো অপরাধ। সারা দেশে আমাদের নামে কয়েকশ এফআইআর করা হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন আমরা দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসবাদী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More