শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

জেল থেকে ছাড়া পেলে ফের খুন করব, বলল মুম্বইয়ের স্টোনম্যান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমাকে জেলেই মেরে ফেলুন। জেল থেকে ছাড়া পেলেই আমি আবার খুন করব। এই কথা বলে মুম্বই পুলিশকে চমকে দিয়েছে এক সিরিয়াল কিলার। তার কাজ ছিল ঘুমন্ত মানুষের মাথায় ভারী পাথর দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলা।

গত ২১ জানুয়ারি কর্ণাটকের গুলবর্গা জেলার আফজলপুর গ্রাম থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে ভিত্তাল ভজন্ত্রি নামে এক যুবককে। তার বয়স ২৬। এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, তাকে ধরার পরে কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিল না সে অনেকগুলি খুন করেছে। অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ছেলে বলে মনে হয়েছিল তাকে। কিন্তু অল্পক্ষণ জেরার পরেই সে পুলিশকে বিস্তারিত বলেছে, কী ভাবে সে খুনগুলো করত। সেই সঙ্গে পুলিশকে এও বলেছে, “আমাকে জেলে মেরে ফেলুন, নইলে বাইরে বেরিয়ে আবার খুন করব।”

ভিত্তাল দিনমজুরের কাজ করত। বান্দ্রা থানায় সে স্টোনম্যান বলে পরিচিত। গত অক্টোবর মাস থেকে পুলিশ তাকে খুঁজছে। সে স্বীকার করেছে, পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে সাতজনকে খুন করেছিল। পুলিশ জানত, স্টোনম্যানের শিকার হয়েছে পাঁচজন। অপর দু’জনের ক্ষেত্রে পুলিশের মনে হয়েছিল, তারা দুর্ঘটনায় মারা পড়েছে। কিন্তু ভিত্তলের স্বীকারোক্তির পরে তাদের মৃত্যু নিয়ে সংশয় নেই পুলিশের।

স্টোনম্যান প্রথম খুন করে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর। মাহিম অঞ্চলে জামুরা নামে এক ব্যক্তি তাকে ও তার বন্ধু সুরজকে বিদ্রুপ করেছিল। ভিত্তল পাথর দিয়ে জামুরার মাথায় মেরে তাকে খুন করে। মাহিমে রাস্তার ধারে তার দেহটি পাওয়া গিয়েছিল।

তার পরে একমাসও কাটেনি, ভিত্তল দ্বিতীয় খুনটি করে। বাঙালি নামে এক দিনমজুর ভিত্তলের দুর্বল দেহ নিয়ে ঠাট্টা করেছিল। পরে সমুদ্রের ধার থেকে তার পচাগলা দেহ পাওয়া যায়। ভিত্তল জানিয়েছে, সে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর বাঙালিকে খুন করেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিত্তল এমনিতে খুব রোগা, দুর্বল। সেজন্য অনেকে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করত। কিন্তু মদ্যপান করলেই বদলে যেত সে। তার মাথায় খুন চাপত। মাথায় পাথর ঠুকে ঠুকে ঘুমন্ত মানুষকে খুন করতে তার হাত কাঁপত না।

ওয়াডালার ডন বস্কো শেল্টারের সুপারভাইসার গ্রেস জন ভিত্তলকে ছোটবেলা থেকে চিনতেন। তিনি বলেছেন, সে ছিল শান্ত ছেলে। জোর শব্দ পছন্দ করত না। আমি তাকে ২০০৫-০৬ সালে প্রথম দেখেছি। তখন সে নিতান্তই বালক। ২০১৬ সালে তাকে দ্বিতীয়বার দেখেন গ্রেস জন। তখন ভিত্তল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিল। গ্রেস তাকে বলেন, নেশা করা ছেড়ে দাও। কোনও কাজ শেখ। ভিত্তলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, গ্রেসের কথামতো কাজ করবে। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি।

বছরখানেক বাদে সে মানুষ খুনে হাত পাকায়। তারপর পালিয়ে যায় আফজলপুর গ্রামে। সেখানে তার সাত ভাইবোন থাকে।

গ্রামে গিয়ে এক বোন ও তার স্বামী দেবেন্দ্র পণ্ডিতের সঙ্গে ভিত্তলের ঝগড়া হয়। ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর সে পাথর ঠুকে দেবেন্দ্রকে খুন করে। তার দেহটি ধানক্ষেতের ধারে পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর আফজলপুর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। একবছর জেলে থাকার পরে সে জামিনে মুক্তি পায়। তারপর মুম্বইয়ে ফিরে গিয়ে ফের খুনের ষড়যন্ত্র করতে থাকে।

ভিত্তলের আশঙ্কা হয়, তার বন্ধু সুরজ জানে সে দু’টো খুন করেছে। ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি বান্দ্রায় পাথর দিয়ে মেরে সুরজকে খুন করে। সুরজের ছেঁড়া জামাকাপড় পড়েছিল মৃতদেহের ২০০ মিটার দূরে। সেদিকে একটি রাস্তা গিয়েছে মাহিমের দিকে। সেখানে অনেকে জানায়, এক বন্ধুর সঙ্গে সুরজকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। সেই বন্ধু এখন গিয়েছে গুলবর্গায়।

গুলবর্গায় গিয়ে বান্দ্রা পুলিশ জানতে পারে, সেখানে ভিত্তল নামে এক ব্যক্তি জামাইকে খুন করে জেল খেটেছিল। ১৯ জানুয়ারি পুলিশ তাকে হাইওয়ে থেকে গ্রেফতার করে।

Shares

Comments are closed.