‘বরকে চুমু খাবো, আটকে দেখান’, কোভিড-বিধি ভেঙে পুলিশের সঙ্গে তর্ক মহিলার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ। ভাইরাসের ধাক্কা সামলাতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সচেতনতা? দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে তার কোনও বালাই দেখা যাচ্ছে না এখনও। এদিন দিল্লির ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল সে কথাই।

করোনার ধাক্কায় জেরবার অবস্থা রাজধানীর। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে সপ্তাহান্তে লকডাউন জারি করেছে দিল্লি সরকার। এর মাঝেই রবিবাসরীয় বিকেলে ‘ঘুরতে’ বেরিয়েছিলেন এক দম্পতি। চার চাকার গাড়ি নিয়ে লকডাউনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরের রাস্তায় ঘুরছিলেন তাঁরা। বলা বাহুল্য, সঙ্গে ছিল না কার্ফ্যু পাস, যা দিল্লিতে সম্প্রতি লকডাউনকালে বাইরে বেরোনোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গাড়িটিকে যথারীতি আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় ঝামেলা। পুলিশ কর্মীর সঙ্গে রীতিমতো তর্ক জুড়ে দেন ওই দম্পতি। তাঁদের গাড়ি কেন আটকানো হল, সেটাই ছিল তাঁদের প্রশ্ন। এই বচসার একটি ভিডিও ক্লিপ এদিন ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দম্পতির দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অযথা তর্কে বিরক্ত হয়েছেন নেটিজেনরা সকলেই।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে পুলিশ গাড়ি আটকে দিলে ভদ্রলোক নেমে এসে প্রশ্ন করছেন “কেন আপনি আমার গাড়ি আটকালেন? আমি গাড়ির ভিতরে আমার স্ত্রীর সঙ্গে ছিলাম।” তাঁদের কারোর মুখেই মাস্ক ছিল না। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়ির ভিতর একা থাকলেও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুলিশ কর্মী যখন সেকথা মনে করিয়ে দেন, তখন উল্টো তর্ক জোড়েন সঙ্গে থাকা মহিলা।

স্পষ্টই তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি আমার বরকে চুমু খাবো, আপনি আমায় আটকাতে পারবেন?” বেশ খানিকক্ষণ বচসার পর ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশ কর্মীকে ডেকে পাঠানো হয়। নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ওই দম্পতিকে।জানা গেছে ভদ্রলোকের নাম পঙ্কজ দত্ত এবং মহিলা হলেন আভা গুপ্ত। ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সোমবার সকালে আদালতেও হাজির করা হবে। মহিলাকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে রবিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার মানুষ। করোনা বিধি ভাঙার জন্য গত কয়েকদিনে প্রায় ৫৭০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে পুলিশের খাতায়। গ্রেফতার হয়েছেন অন্তত ৩২৩ জন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More