রোগীদের কি অক্সিজেনের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হবে? কেন্দ্রকে তিরস্কার হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড মোকাবিলায় যেখানে প্রয়োজন সেখানে যদি ওষুধ বা চিকিৎসার অন্যান্য সরঞ্জাম না পাঠানো হয়, তা হলে ধরে নিতে হবে মানুষকে খুন করা হল। দিল্লি সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করল হাইকোর্ট। কেজরিওয়াল সরকার অভিযোগ করেছিল, কোভিড মোকাবিলায় অক্সিজেন ও ভ্যাকসিন পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে।

সোমবার দিল্লিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার জন। দিল্লি সরকারের বক্তব্য, তারা যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ সিলিন্ডার একটি ‘বড় রাজ্যে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি সেই রাজ্যের নাম করেনি। তাদের বক্তব্য, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে। হাইকোর্ট এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করে, কোনও কারখানায় কি অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে? বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও বিচারপতি রেখা পাল্লিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করে, “কারখানায় পরেও অক্সিজেন পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু রোগীদের অপেক্ষা করানো যায় না। তাহলে অনেকের প্রাণ বিপন্ন হবে।”

বিচারপতিরা বলেন, তাঁরা শুনেছেন, গঙ্গারাম হাসপাতালের ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন কম দিচ্ছেন। কারণ হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পের প্রয়োজনে অক্সিজেন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, “আজ থেকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না কেন? মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আপনারা কি রোগীদের বলবেন, অক্সিজেনের জন্য ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

কেন্দ্রীয় সরকার হাইকোর্টে জানায়, মাত্র তিন শতাংশ কোভিড রোগীকে আইসিইউ বেডে রাখতে হচ্ছে। তাঁদের জন্য প্রয়োজন ২৪ লিটার অক্সিজেন। নন আইসিইউ বেডের জন্য প্রয়োজন ১০ লিটার অক্সিজেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, ৮০ শতাংশ করোনা রোগীরই সামান্য উপসর্গ রয়েছে। ১৭ শতাংশের উপসর্গ রয়েছে মাঝারি।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, “দিল্লি সরকার ৭০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন চেয়েছিল। তাদের দেওয়া হয়েছে ৩৭৮ মেট্রিক টন।”

সোমবার দিল্লিতে মারা গিয়েছেন ২৫০ জন। মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে তা রেকর্ড। স্বাস্থ্য দফতর বলেছে, প্রতি ঘণ্টায় রাজধানীতে অন্তত ১০ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা এতটাই বাড়ছে যে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে কোভিড বেড দেওয়া যাচ্ছে না রোগীদের। একই বিছানায় রোগীদের ঠাসাঠাসি করে থাকতেও দেখা গিয়েছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে সংক্রমণ বেশি।  বিহারে রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত এই কার্ফু কার্যকর থাকবে। উত্তরপ্রদেশের ৫ শহরে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, কানপুর এবং গোরক্ষপুর— এই পাঁচ শহরে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More