দুই ‘চাষির মেয়ে’ জয়েন্টে পেলেন ৯৯ শতাংশেরও বেশি নম্বর! অনটনকে হারিয়ে রূপকথা লিখল পরিশ্রম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা বেটি বাঁচিয়েছেন এবং বেটি পড়িয়েছেন। এতটাই যত্নে ও গুরুত্বে এই কাজটি করেছেন, যে শত প্রতিকূলতা পার করে এ বছরের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি স্কোর করেছেন হরিয়ানার দুই ‘চাষির মেয়ে’! খবরটি সামনে আসতেই ধন্য-ধন্য পড়ে গেছে সর্বত্র।

রোহতক জেলার হাসানগড় গ্রামের বাসিন্দা সিমরন পেয়েছেন ৯৯.৪৭% নম্বর এবং ফতেহাবাদ জেলার ইন্দাচই গ্রামের বাসিন্দা কাজল পেয়েছেন ৯৯.৩১% নম্বর।

নারী-নির্যাতন ও কন্যাভ্রূণ হত্যার মতো ঘটনায় ওপর দিকেই নাম থাকে হরিয়ানার। সেখানকার প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলির আর্থিক পরিস্থিতিও যে খুব ভাল নয়, তাও স্পষ্ট হয়েছে নানা ঘটনায়। সেই রাজ্যেরই তেমনই এক পরিবারে বেড়ে উঠে জয়েন্ট প্রবেশিকার মতো কঠিন পরীক্ষায় এমন চমকে দেওয়ার মতো ফলাফল কী করে করলেন তাঁরা?

প্রান্তিক কৃষক পরিবারেরর সদস্য এই দুই তরুণী আরও ৪৬ জন পড়ুয়ার সঙ্গে নাম লিখিয়েছিলেন হরিয়ানা সরকারের ‘সুপার ১০০ প্রোগ্রাম’-এ। সিমরন জানান, জয়েন্ট পরীক্ষা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন পূরণ করার জন্য পরিশ্রমও করেছিলেন খুব। কিন্তু তার ফলাফল যে এতটা ভাল হবে, তা আশা করেননি তিনি।

সিমরনের পরিবার সূত্রের খবর, গ্রামের সরকারি স্কুলেই ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছেন সিমরন। সেখানেও বোর্ড পরীক্ষায় ৯০ শতাংশের ওপর নম্বর পান তিনি। কিন্তু এত ভাল রেজাল্ট করলেও, তার পরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ দু’একরেরও কম জমির মালিক সিমরনের বাবা আচমকাই একটি দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যান। তার পরেও দাঁতে দাঁত চেপে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি।

“আমার স্বপ্ন ছিল, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার হবো। পরিবারের পাশে দাঁড়াব। তাই কোনও অবস্থাতেই পড়া বন্ধ করিনি। এখন রেজাল্ট বেরোনোর পরে খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।”– বলেন সিমরন।

কাজল আবার তাঁর সাফল্যের গোটা কৃতিত্বই দিচ্ছেন সুপার ১০০ প্রোগ্রামকে। সেখানেই প্রস্তুতি এগিয়েছিল এত ভাল ভাবে। কাজলের স্বপ্ন আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা এবং গরিব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া। এমন ঝাঁ চকচকে রেজাল্ট দেখে তিনিও খুব খুশি।
রিওয়ারি-তে আয়োজিত এই সুপার ১০০ প্রোগ্রামের প্রধান শিক্ষক নবীন মিশ্র জানালেন, তিনি ও তাঁর পাঁচ বন্ধু মিলে এই সরকারি উদ্যোগটিতে গরিব ছেলে-মেয়েদের পড়ান বিনা পয়সায়। তিনি বললেন, “এই মেয়ে দু’টি শুধু আমাদের নয়, সারা রাজ্যের গর্ব।”

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More