রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

পুরুষের চেয়ে মহিলারা বেশি খুশি হন পরকীয়ায়, বলছে সমীক্ষা!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরকীয়া সম্পর্কে মহিলারা পুরুষের চেয়ে বেশি খুশি হন।! এই মহিলারা সপ্তাহে দু’বার শারীরিক সম্পর্কে যান বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে।  আর তাতেই দিব্যি খুশি থাকেন।  সমীক্ষা বলছে যেসব মহিলারা বিবাহিত জীবনে খুব সামান্য সুখ পেয়েছেন, তারাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পরকীয়ায় মজেছেন।  এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরীর ছাড়া আর কিছুই তেমন গুরুত্ব পায় না।

একটি সমীক্ষায় এই তথ্যই উঠে আসছে।  কানাডার একটি অনলাইন ডেটিং অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস অ্যাপ ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’এর মাধ্যমে এই সমীক্ষা চালানো হয় বিবাহিত পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে। মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক অ্যালিসিয়া ওয়াকার প্রায় ১০০০ জনকে নিয়ে এই সমীক্ষা চালান।

‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’ এর উপর সমীক্ষার পর একটি সেক্স জার্নালে বলা হচ্ছে ওই মহিলারা প্রত্যেকেই নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ এবং চাহিদাগুলো সরাসরি তাঁদের পরকীয়া পার্টনারকে বলে দেন।  নিজেদের মর্জিমাফিকই চলেন তাঁরা।  আসলে বৈবাহিক জীবনের অপূর্ণতা থেকেই তাঁরা এই সম্পর্কে জড়ান।  তাঁদের ‘ডিজ়ায়ার’ এর ফাঁকা জায়গাটা ভরাট করতেই বেছে নেন অন্য পুরুষ সঙ্গী।  তাই সম্পর্কগুলোর ভিত্তি ভীষণরকম শারীরিক হয়।

ভারতীয় সংস্কৃতির ইতিহাস ঘাঁটলে পরকীয়ার অনেক তথ্যই উঠে আসে।  তবে নৈতিক বেড়াজালে এখনও এদেশে লুকোচুরি চলতে থাকে পরকীয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে।  বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি অপরাধ ছিল, যেখানে এ ধরণের সম্পর্কে যুক্ত থাকা পুরুষের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা ছিল।  যদিও ইদানীং আইনে যে বদল এসেছে তাতে পরকীয়ায় পুরুষের শাস্তি আর হচ্ছে না।  ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঘোষণা করেছে যে বিবাহিত কোন নারী বা পুরুষ যদি স্বামী বা স্ত্রী-র বাইরে অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক করেন – যাকে বলা হয় পরকীয়া – তা আর এদেশে ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে না।  পরকীয়া সম্পর্কে জড়ালে ১৫৮ বছরের পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধির যে ধারায় একজন পুরুষ মানুষের জেল হওয়ার নিয়ম ছিল, তাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
অতএব পরকীয়ায় জড়িয়ে একটু ফ্রেশ অক্সিজেন নেবেন, না থোড়-বড়ি-খাড়া চার দেওয়ালেই মেরামত করে নেবেন দুজনের সম্পর্ক? পছন্দ আপনার হাতেই রইল।

Shares

Comments are closed.