পৃথিবীর বৃহত্তম গুহা ভিয়েতনামের ‘হ্যাং সন ডুং’

কিছু বছর আগেও মানুষ জানতেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হলো মালয়েশিয়ার ‘সারাওয়াক চেম্বার’। যে গুহাটি প্রায় ১০ লক্ষ ঘন ফুট এলাকা জুড়ে রয়েছে। পরবর্তীকালে জানা গিয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম গুহাটি আছে চিনে। মিয়াও রুম চেম্বার নামে গুহাটির আয়তন প্রায় এক কোটি ঘন মিটার। কিন্তু সম্প্রতি জানা গিয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম গুহা আছে ভিয়েতনামে। যার আয়তন ৪ কোটি ১ লক্ষ ঘন মিটার। এটিই বিশ্বের বৃহত্তম গুহা। নাম ‘হ্যাং সন ডুং‘।

ভিয়েতনামের ‘কোং বিন’ প্রদেশের, ‘বো টাচ’ জেলার ‘ফুং নাহকে ব্যাং‘ জাতীয় উদ্যানে আছে এই গুহাটি।  ‘হো খানহ’ নামের এক ব্যক্তি, ১৯৯১ সালে গুহাটি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। জঙ্গলে শিকার করার সময় হঠাৎ এসে পড়া ঝড় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ওই ব্যাক্তি গুহাটিতে আশ্রয় নিতেন।

এই গুহাটিতে প্রবেশ করার জন্য দুটি গুহামুখ আছে।  বহু বছর আগে আবিষ্কৃত হলেও তা এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয় গুহাটি। তবে গবেষকেরা অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন।  ২০০৯ সালে গুহাটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। জানা গিয়েছিল, হ্যাং সং ডুং নামের গুহাটি প্রায় ১৫০টি গুহার সমন্বয়ে গঠিত। মাটির তলা দিয়ে প্রায় নয় কিলোমিটার গিয়েছে গুহাটি। তবে গুহাটির শেষ কোথায় তা এখনও জানা যায়নি।

প্রথমে অনুমান করা হয়েছিল গুহাটির আয়তন ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ কিউবিক মিটারের কাছাকাছি। কিন্তু কিছুদিন আগে, তিন ব্রিটিশ ডুবুরি ওই গুহার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা একটি নদীর নীচে আরও একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান পেয়েছেন। যে সুড়ঙ্গটি ‘হ্যাং সন ডুং’ গুহাকে যুক্ত করছে ‘হাং থুং’ গুহার সঙ্গে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গুহাটির আয়তন এখন দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১ লক্ষ কিউবিক মিটার!

গবেষকেরা জানিয়েছেন, গুহাটির বয়স প্রায় ৩৬ কোটি বছর। গুহাটির দেওয়াল তৈরি চুনাপাথর দিয়ে। গুহাটির ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত নেমে এসেছে স্ট্যালাগমাইট দিয়ে তৈরি বিশাল বিশাল স্তম্ভ।

যে সব গবেষক ও চিত্রগ্রাহক গুহার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা জানিয়েছেন, ‘হ্যাং সন ডুং’ গুহার ভেতরটা যেন আলাদা একটা পৃথিবী। ২০১০ সালে, জার্মানির এক চিত্রগ্রাহক গুহার ভেতরে দু’সপ্তাহ কাটিয়েছিলেন। অসামান্য কিছু ছবি তুলেছিলেন তিনি। ছবিগুলি দেখলে মনে হয় যেন অন্য কোনও গ্রহের ছবি

হ্যাং সন ডুং-এর মধ্যে থাকা বৃহত্তম কক্ষটির  উচ্চতা ২০০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। যেটির ভেতরে অনায়াসে ঢুকে যাবে একটি চল্লিশ তলা বাড়ি। পাথরের গায়ে জমে আছে সবুজ ভেলভেটের মতো শ্যাওলা। যা সূর্যের আলোয় সৃষ্টি করে নয়নাভিরাম নিসর্গ।

রহস্যময় হ্যাং সন ডুং-এর ভেতরে বাস করে কীটপতঙ্গ, বিছে, বিষধর সাপ সহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণি। গুহার ভিতরে রয়েছে অসংখ্য ঝরনা। আছে ক্ষরস্রোতা নদী ও বহু সুড়ঙ্গ। যেগুলির শেষ কোথায় তা আজ অবধি  জানা যায়নি।
হ্যাং সন ডুং –এর ভিতরে আছে ঘন জঙ্গল। যে জঙ্গলে আছে বহু অজানা গাছ। যে গাছগুলি বাইরের পৃথিবীতে দেখতে পাওয়া যায় না। জঙ্গলে ও গুহার ভেতরে নির্ভয়ে বাস করে লক্ষ লক্ষ বাদুড় ও পাখি। সব চেয়ে বড় কথা, এই গুহাটি সবার অলক্ষ্যে তৈরি করে নিয়েছে নিজস্ব জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্র। মানুষের লোভ আজও যা নষ্ট করতে পারেনি।

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More