চামড়ায় পেরেক ঠুকে ইতিহাস আঁকেন বৃদ্ধা! দেখুন বিশ্বের প্রবীণতম ট্যাটু শিল্পীর ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথাও পছন্দের ফুল তো কোথাও বিশেষ কোনও নাম বা প্রিয় গানের কলি, ট্যাটু আঁকাতে নিত্যনতুন হিড়িক লেগেই থাকে। আর এসব ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ, উৎসাহ বরাবরই থাকে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই ট্যাটু আঁকার শিল্পীদের খোঁজ রাখেন ক’জন?

হাত পা বা দেহের যে কোনও অংশে ট্যাটু আঁকার প্রবণতা কিন্তু নতুন নয়। অন্তত এর কপিরাইট দাবি করতে পারে না আধুনিক সমাজ। কারণ প্রাচীনকালেও প্রচলিত ছিল ট্যাটু বা উল্কি আঁকার রীতি। আর তারই রেশ আজও বয়ে চলেছেন ওয়াং ওড। বিশ্বের প্রবীণতম ট্যাটু আর্টিস্ট।

ফিলিপাইন্সের দুর্গম এলাকায় অখ্যাত এক গ্রামে থাকেন ওয়াং ওড। বয়স ১০৩ বছর। ট্যাটু আঁকার পেরেকটি তিনি হাতে নিয়েছিলেন যুবতী বয়সে। এখনও তাঁর হাত থেকে পেরেক আর ডান্ডাটা সরেনি। একইরকম ভাবে আজও হাত পায়ে পেরেক ঠুকে ঠুকে ট্যাটু এঁকে চলেন বৃদ্ধা।

ওয়াং ওডের কাছে ট্যাটু আঁকতে গেলে কিন্তু কেউ নিজের ইচ্ছার জোর খাটাতে পারেন না। কাউকে তিনি নিজের মনের মতো ট্যাটু এঁকে দেন না। একে প্রাচীন পদ্ধতি, তায় আবার এতরকম বাধ্যবাধকতা! তবু কেন দুর্গম পথ পেরিয়ে ওয়াং ওডের কাছেই ট্যাটু আঁকাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যান মানুষ? কী জাদু আছে সেই ট্যাটুতে?

ফিলিপাইন্সের রাজধানী মানিলা থেকে মোট দু-দিনের দূরত্বে রয়েছে বুসকালান গ্রাম। সেখানেই থাকেন বিশ্বের প্রবীণতম ট্যাটু শিল্পী ওয়াং ওড। প্রাচীন পদ্ধতিতে যেসমস্ত ট্যাটু তিনি আঁকেন তার প্রত্যেকটিই কোনও না কোনও প্রাচীন ঐতিহ্যকে বহন করে। বুসকালান অঞ্চলে আগে গোষ্ঠীবদ্ধ লোকজন যুদ্ধ করতে গেলে, বা কারোর বিয়ে হলে বিভিন্ন রকম ট্যাটু তাঁদের গায়ে হাতে পায়ে এঁকে দেওয়ার রীতি ছিল। আজও সেই রীতি মেনেই কাজ করেন ওয়াং। তবে আজ আর পাড়ার লোক নয়, তাঁর কাছে ট্যাটু করাতে ছোটেন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। ট্যাটুর মধ্যে দিয়েই প্রাচীনতার গন্ধ গায়ে মাখতে চান তাঁরা।

বয়সের ভারে শরীর হয়তো খানিক ঝুঁকেছে, কিন্তু আজও পেরেক নিয়ে হাত কাঁপে না ওয়াংয়ের। গাছের কাঁটাকে ট্যাটু আঁকার পেরেক হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। কালিটাও চারকোল আর জল দিয়ে বানিয়ে নেন নিজেই। তিনি বলেন, “ট্যাটু আঁকার একটা নির্দিষ্ট ধরণ আছে। তোমাকে জানতে হবে ঠিক কতটা চাপ দিলে রক্ত ফেটে বেরিয়ে আসবে না।” ট্যাটু করাতে গেলে যে বড্ড ব্যথা লাগে, নিজের মুখেই তা স্বীকার করে নিয়েছেন ওয়াং। কুঁচকে যাওয়া চামড়ার বৃদ্ধ হাতে আজও ঝড়ের গতিতেই পেরেক চালাতে পারেন তিনি। মিনিটে প্রায় ১০০ বার চলে তাঁর পেরেক।

মাত্র ২০ ডলারেই ট্যাটু এঁকে দেন ওয়াং। প্রাচীন এই রীতিকে আগামীর পরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার রাস্তাও তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর যাতে ট্যাটু আঁকার এই অনন্য পদ্ধতি চিরতরে হারিয়ে না যায়, তার জন্য নিজের দুই নাতনিকে ট্রেনিং দিয়েছেন ওয়াং। শিখিয়েছেন কীভাবে মেপে মেপে চাপ দিয়ে পেরেক ঠুকে ট্যাটু আঁকতে হয় চামড়ায়। যা থেকে যায় আমৃত্যু। ওয়াংয়ের কথায়, “তুমি যদি গয়না পরো, তা খুলে রাখা যাবে, কিন্তু ট্যাটু তোমার সঙ্গেই থেকে যাবে চিরকাল।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More