পুলিশকর্তাকে অপহরণ আধা সেনার, পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ, ইমরানের গদি টলমল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার পাকিস্তানের দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের পুলিশের ইনস্পেকটর জেনারেলের বাড়িতে হানা দেয় আধা সেনা। তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাঁকে দিয়ে জোর করে এক বিরোধী নেতার গ্রেফতারি পরোয়ানা লিখিয়ে নেয়। এরপরে দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের প্রত্যেক পুলিশকর্তা ছুটিতে গিয়েছেন। সরকারের ওপরে তাঁরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে পুরো পুলিশবাহিনী হাস্যস্পদ হয়ে উঠেছে।

ইমরান খানের সরকারের কোনও মুখপাত্র এবিষয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রধান কামার আলি বাওয়েজা বলেছেন, পুলিশকর্তাকে অপহরণের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দু’বছর আগে ইমরান খান পাকিস্তানে ক্ষমতায় আসেন। সেনাবাহিনী তাঁর সরকারকে সমর্থন করে। ইতিমধ্যে সরকার এত বড় সংকটে কখনও পড়েনি। আধা সেনার যে বিভাগ পুলিশকর্তাকে অপহরণ করেছিল, তারা রেঞ্জার্স নামে পরিচিত। অপহৃত পুলিশকর্তার নাম মুসতাক আহমেদ মাহার। তাঁকে দিয়ে যে নেতার গ্রেফতারি পরোয়ানায় সই করানো হয়েছে, তাঁর নাম সফদর আওয়ান।

১১ টি বিরোধী দলের জোট কয়েক মাস ধরে ইমরান সরকারের অপসারণের দাবিতে দেশ জুড়ে আন্দোলন করছিল। তাদের অভিযোগ, দেশ জুড়ে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। সেনাবাহিনীও বারে বারে প্রশাসনিক ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। পুলিশকর্তাকে অপহরণের পরে বিরোধীরা আরও জোরদার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পরে দীর্ঘকাল সেই দেশ সেনাবাহিনীর অধীনে থেকেছে। দেশের বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষায় সেনাবাহিনী বরাবরই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সমালোচনা করা নিষিদ্ধ।

পাকিস্তানে ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে সমালোচনার অভিযোগে কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক ও সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের পুলিশকর্তাকে দিয়ে যে বিরোধী নেতার গ্রেফতারি পরোয়ানায় সই করানো হয়েছিল, তিনি মরিয়ম নওয়াজ শরিফের স্বামী। মরিয়ম হলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে। তাঁর স্বামী সফদর আওয়ান ইতিমধ্যে সিন্ধু হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More