এক বছর বাদে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল করোনার উৎসস্থল উহান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এক বছরের কিছু বেশি আগে রাত দু’টোয় স্মার্টফোনে এসেছিল বার্তা। উহানের মানুষ জানতে পেরেছিলেন, তাঁদের শহরে লকডাউন জারি হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সেই প্রথম লকডাউন জারি হয়েছিল বিশ্বে। মোট ৭৬ দিন থমকে গিয়েছিল উহানের জনজীবন। শনিবার সকালে দেখা গেল, সেই শহরের মানুষ পার্কে জগিং করছেন। কড়াকড়ি আর নেই।

সারা বিশ্বে এখনও করোনা অতিমহামারীকে ঠেকানো যায়নি। কিন্তু করোনার উৎসস্থল উহানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে অনেকাংশে। শহরের বাসিন্দা ১ কোটি ১০ লক্ষ। এক বছর আগে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল উহানের নানা এলাকা। এখন আর সেখানে ব্যারিকেড নেই।

করোনার প্রকোপে এই শহরেই মারা গিয়েছেন ৪৬৩৫ জন। ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল উহান থেকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। তারপর থেকে শহরে বড় সংখ্যায় সংক্রমণ দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েকটি প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। প্রথমত, উহানের ঠিক কোথায় প্রথম করোনা সংক্রমণ ঘটেছিল? দ্বিতীয়ত, চিনের সরকার কি যথাসময়ে আন্তর্জাতিক মহলকে অতিমহামারীর কথা জানিয়েছিল? এখনও পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে ৯ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকের ধারণা, চিন যদি আরও আগে করোনা সংক্রমণের কথা জানাত, তাহলে প্রস্তুত হওয়ার জন্য আরও বেশি সময় পেত অনেক দেশ।

চিন সরকারের বক্তব্য, করোনার মোকাবিলায় যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছেন উহানের মানুষ। তা নিয়ে ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে বই। তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র। উহানের বাসিন্দা চেন জিয়ালি বলেন, “আমাদের শহর বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেছে। পুরো চিন যাতে অতিমহামারীর বিরুদ্ধে ভালভাবে লড়তে পারে, সেজন্য আমরা নিজেদের অর্থনীতিকে বলি দিয়েছি। কাজটা নিঃসন্দেহে মহৎ।”

শনিবার চিন জানিয়েছে, সেদেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৭ জন। এখনও পর্যন্ত চিনে আক্রান্ত হলেন ৮৮ হাজার ৯১১ জন। চিনের উত্তরে হেলিওংজিয়াং প্রদেশে সংক্রমিত হয়েছেন ৫৬ জন। সারা দেশের মধ্যে ওই অঞ্চলেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বেজিং ও সাংহাইতে তিনজন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

আগামী মাসে চিনা ক্যালেন্ডারে নতুন বছর শুরু হছে। সরকার নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছে, এবছর কোথাও বেড়াতে যাবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন। নতুন বছরের উৎসবে করোনা ছড়াতে পারে বলে সরকার আশঙ্কা করছে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসতে বারণ করা হয়েছে। ক্লাস চলছে অনলাইনে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরকার নজর রাখছে, নতুন করে কতজন করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। যেখানে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সেখানে কেউ যাচ্ছেন কিনা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More