কোভিড হলে বাড়তে পারে চুল পড়ার সমস্যা! জেনে নিন কী বলছেন ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দীর্ঘ ন’মাস ধরে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে কম বেশি সকলের। দিন-রাত যেমন আতঙ্কে কেটেছে তেমনই নানা উপসর্গ নিয়ে চিন্তিত থেকেছেন প্রত্যেকেই। যেমন খুব কমন উপসর্গ জ্বর। হঠাৎ জ্বর হলেই অনেকেই ধরে নিচ্ছেন কোভিড। সেটা কিন্তু ডেঙ্গু, ভাইরাল ফিভারেরও উপসর্গ হতে পারে। আবার স্বাদ, গন্ধ না পাওয়াটাও কোভিডের অন্যতম একটা উপসর্গ। একইসঙ্গে কোভিড হলেই বাড়তে পারে চুল পড়ার সমস্যা। ডাক্তাররা বলছেন সমীক্ষায় জানা গেছে এর কারণেই হয়তো অতিরিক্ত চুল পড়ছে কমবয়সী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলের।

সম্প্রতি একটি সার্ভে থেকে জানা গেছে কোভিডের প্রথম পঁচিশটি লক্ষ্মণের মধ্যে অতিরিক্ত চুলপড়ার সমস্যা একটি। সার্ভেটি কনডাক্ট করেছেন ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের ডাক্তার নাটালিয়ে ল্যাম্ববার্ট এবং ফেসবুকের সারভাইভার কর্প গ্রুপ। সাধারণত চুল পড়ার সমস্যায় আজকালকার দিনে প্রায় প্রত্যেকেই ভোগেন। দূষণ, ভুল ডায়েট, জল, কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট এসবের কারণে চুল পড়ে। কিন্তু এবছরের সমীক্ষা জানাচ্ছে ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকছে অনেকের মধ্যে। নেগেটিভ হওয়ার পরও ক্লান্তিভাব কাটতে যেমন সময় লাগছে, তেমনই চুল পড়ার সমস্যাও বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন কোভিড রোগীরা।

ডাক্তাররা জানাচ্ছেন এই নিয়ে সারা বিশ্বেই রিসার্চ চলছে। কোভিড এবং চুল পড়ার সমস্যা, এই দুইয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে রিসার্চ করলেও এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি মূল কারণ। তবে ডাক্তাররা জানাচ্ছেন অতিরিক্ত স্ট্রেস, টেনশনের কারণে বাড়ছে চুল পড়ার সমস্যা। হঠাৎ কোনও খবর শুনে শক পেলে, স্ট্রেস পড়লে, টেনশন করলে, হেডেক হলে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন এটাকে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ বলা হয়।

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া হলে সাধারণত মহিলা, পুরুষ সকলেরই চুল পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমেই মাথার টেমপ্লেট অর্থাৎ মাথার দুপাশে চুল পড়ে ফাঁকা হয়ে যায়। একটি সার্ভে থেকে জানা যাচ্ছে কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ার পর অনেকেরই অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া ধরা পড়ছে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে বেশি। কেউ কেউ আবার পুরোপুরি ন্যাড়াও হয়ে যেতে পারেন।‌ তাই ডাক্তাররা জানাচ্ছেন অতিরিক্ত চুল পড়তে শুরু করলে সেটাও কোভিডের একটা সিম্পটম। আপাতত এই কারণেই স্ট্রেস কমাতে বলছেন ডাক্তাররা। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে শরীর সুস্থ রাখতে বলছেন। সমস্যা বাড়লে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সমানভাবে জরুরি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More