সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালে-র ‘অবিচার’! সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দর্শকরা

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

জি বাংলা সারেগামাপা-য় অর্কদীপ কেন প্রথম? নীহারিকা, অনুষ্কা, বিদীপ্তাদের মধ্যে কেউ সারেগামাপা চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়নস হল না কেন!

এই প্রশ্নে, বিস্ময়ে, ক্ষোভেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ ফেটে পড়ছেন সারেগামাপার শ্রোতা-দর্শকরা। সদ্য ঘোষণা হয়েছে জি বাংলা সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালের চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন্সের নাম। আর সেই ফলাফলই হতাশ ও বীতশ্রদ্ধ করেছে দর্শকদের। যদিও ফিনালে অনুষ্ঠানটি বিশ্ব বাংলা অডিওটোরিয়ামে কিছু সপ্তাহ আগেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেছিল।

আরও একটি প্রশ্ন উঠছে শো দেখে। বিচারক, মিউজিশিয়ান, সেলেব, বিশাল দর্শকবৃন্দ– সকলে এয়ার কন্ডিশনড হলে মাস্কবিহীন হয়ে রইলেন, একসঙ্গে নাচলেন।

লোকগান শিল্পী অর্কদীপ মিশ্রকে সারেগামাপা বিজয়ী এবং  চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়ন্স করা হয়েছে। তাতেই দর্শকরা নারাজ। প্রশ্ন উঠছে অর্কদীপের ভার্সেটালিটি নিয়ে। কারণ গত সাত মাস ধরে সারেগামাপা দেখছেন যে দর্শকবৃন্দ, তাঁরা বলছেন নীহারিকাই প্রথম হওয়ার যোগ্য। অনুষ্কার পক্ষেও আছেন অনেকে। এমনকি বিদীপ্তাও এই সিজনের সারেগামাপা-য় বিস্ময়-কণ্ঠ। এদের থেকে সব দিক দিয়ে পিছিয়ে অর্কদীপ, সে কী করে প্রথম হল!

দর্শকরা বলছেন, যে অনুষ্কা, বিদীপ্তা ও নীহারিকা সারা এপিসোডে কোনওদিনও ডেঞ্জার জোনে যায়নি, তারাই প্রথম স্থানাধিকারী হল না। কী অদ্ভুত বিচার! শুধু তাই নয়, শো-এর শুরু থেকে অনুষ্কার পারফরমেন্সেই এই শোয়ের টিআরপি উঠত। সে কিনা চতুর্থ স্থান পেল।

প্রথম হয়েছেন অর্কদীপ, দ্বিতীয় নীহারিকা, তৃতীয় বিদীপ্তা এবং দর্শকদের ভোটে উইনার অনুষ্কা পাত্র। কিন্তু প্রথম স্থান পেয়ে গাড়ির চাবি গেছে অর্কদীপের হাতেই। যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দর্শকরা। যে তিনটি মেয়ে ছিল শো-স্টপার, যাদের ঘিরেই ছিল প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে, তাদের কাউকেই প্রথম করা হলনা। অনেকে বলছেন বিচারটা যদি উল্টে বিজয়ী অনুষ্কা এবং দর্শক ভোটে বিজয়ী অর্কদীপ হত তাহলেও সেটা সঠিক বিচার হত। এমনকি রেজাল্ট শোনার পর অর্কদীপ মিশ্রকে ফেসবুকে মেনশান করে সরাসরি আক্রমণ করতেও ছাড়েননি দর্শকরা।

বিচারকদের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা। ক্ষোভ উগরে পড়ছে শ্রীকান্ত আচার্য, আকৃতি কক্কর এবং গ্রুপ গুরু ইমন চক্রবর্তীর উপর। এপিসোডে দেখা গেছে, ইমন ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই বলেছেন, আমি অর্কদীপের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। সেটা হতেই পারে এতদিনের লড়াইতে গুরু মা পাশে দাঁড়াবেন শিষ্যের। কিন্তু দর্শকমতে রেজাল্ট পুরোপুরি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল, তাই এমন কথা বললেন ইমন। ইমন যোগ্য গুরু নন, অযোগ্য বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য, তাঁরা কেবল রিমেক সিঙ্গার– এমন কথাও বলে চলেছেন ক্রুদ্ধ শ্রোতারা। জি বাংলা শো বয়কটের কথাও বলছেন অনেকে।

গ্র্যান্ড ফিনালের গান নির্বাচন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এক প্রবাসী বাঙালি দর্শক ফেসবুকে লিখলেন, “কাল জিবাংলা সারেগামা ফাইনাল দেখছিলাম। ভাই এটা কি জিটিভি র সারেগামা না জিবাংলার? দু লাইন করে লোক সঙ্গীতের ফোড়ন ছাড়া কোনও প্রতিযোগী একটাও বাংলা গান গাইল না। হ্যাঁ ঠিক শুনছেন একটাও বাংলা গান হয়নি। শুধু পুজোর প্রথমে  গণেশায় নমো করে যেমন একটা ফুল ফেলা হয় সেভাবেই অর্কদীপ একখানা বাংলা লোকগীতি গাইল তাও হিন্দি গান ঢুকিয়ে! এরপর আমরা আবার গলা বাজাই বাংলা বাঁচাও বলে!!! এহ বাহ্য! দর্শকের আসনে বসে রইলেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত আর মঞ্চে বিচার করলেন মিকা সিং!!! বাহ!!!”

অনেকেই বলছেন, শো-এ যেন বাংলা গান গাইলে নম্বর কম পাওয়া যাবে। সেটাই দেখতে হচ্ছে বাঙালি দর্শকদের।

শো-এর আগের সিজনগুলির বিচারকরা যেমন কুমার শানু, শান্তনু মৈত্র বা মোনালি ঠাকুর ছিলেন, তাঁদের নাম করেও লিখছেন দর্শকরা “সকল দর্শকবৃন্দ ও শ্রোতাদের কাছে আমার অনুরোধ যে– এই শোটি জনতার কোনও রায় বা ভোট নেওয়া হয় না। এখানকার বিচারকরাই টাকার রাজনীতি বিনিময়ে বাছাই করে, যোগ্যতা দেখে নয়। আজ এই সিজনে যীশুদা না থাকার কারণ ও কুমার শানু, শান্তনু মৈত্র, মোনালি ঠাকুর না থাকার কারণ পরিষ্কার হয়ে গেছে।… সকলের কাছে আমার অনুরোধ আগামী সিজন থেকে আপনারা এই শোটিকে বয়কট করবেন। … আপনাদের মূল্যবান সময় এমন জঘন্য সংগীতের রাজনৈতিক শো দেখে নষ্ট করবেন না।”

স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, কোথাও গিয়ে যেন সাত মাসের ভাল লাগা ফাইনালে এসে নষ্ট হয়ে গেছে দর্শকদের। এমনও অনেকে বলছেন, ‘প্রতিযোগীরা মুখ খুলবে না প্রাপ্য সম্মান না পেয়েও। কারণ তারা জি বাংলা প্রোডাক্ট।’

অর্কদীপ বাংলার লোকগানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন গোটা শো-য়ে। কিন্তু দর্শকদের মতে, অর্কদীপ বহুমুখীগানে প্রতিভাধর নয়, যা তিনটি মেয়ে করে দেখিয়েছে। অর্কদীপের থেকে গলার কোয়ালিটি ভাল ছিল লোকগানের আরও এক প্রতিযোগী অর্পিতার, যে বাঁকুড়ার ভূমিকন্যা এবং ‘লাল পাহাড়ির দেশে’ গানের সুরকার সুভাষ চক্রবর্তীর মেয়ে। কিন্তু বহু আগেই শো থেকে বাদ পড়েন অর্পিতা।

সব মিলিয়ে বহু আক্ষেপ ঝরে পড়ছে কাল রাতের পর থেকেই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে জি বাংলার পেজ বা ইমন চক্রবর্তীর প্রোফাইলে বা ফেসবুকের নানা গ্রুপে চলছে চর্চা, আলোচনা, নিন্দা।

তবে অনেকেই বলছেন, পুরস্কার বা টাকার অঙ্কের থেকে বড় শ্রোতা-দর্শকদের ভালবাসা। সেটাই শিল্পীর সম্মান। সেটাতেই জিতে গেছেন এবারের জি বাংলা সারেগামাপার তিন কন্যা নীহারিকা, বিদীপ্তা ও অনুষ্কা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More